গত বুধবার দুপুর থেকে টানা তিনদিন অতিবাহিত হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। অন্যদিকে চাঁদপুরেও সংকট চরম আকার ধারণ করায় থমকে গেছে জনজীবন ও যান চলাচল। বাসাবাড়িতে চুলা না জ্বলায় গৃহস্থালি কাজে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় রাস্তায় গণপরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পাওয়ায় চট্টগ্রাম নগরেও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। গতকাল ভোর থেকে নগরের ষোলশহর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চালকদের অভিযোগ, নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে গ্যাস পাননি। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়েও স্টেশন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের উপমহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক জানান, জেলাটিতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। মহেশখালীর এফএসআরইউতে গ্যাসিফিকেশনের জন্য আমদানীকৃত এলএনজি বঙ্গোপসাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লোডিং করা যাচ্ছে না। এতে জাতীয় গ্রিডে মূল সরবরাহ ও গ্যাসের চাপ কমে এ সংকট তৈরি হয়েছে। কখন এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
একই সংকটে চাঁদপুরেও জনজীবন ও যান চলাচল পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল সকাল থেকে জেলার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস দেয়া একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রতিবাদে দুপুরে চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের হাজীগঞ্জ এইচবি ফিলিং স্টেশনের সামনে প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ সিএনজি ও অটোরিকশাচালকরা। সারারাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। চালকরা জানান, সারারাত না ঘুমিয়ে অপেক্ষা করার কারণে তাদের দৈনিক আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। রাস্তায় সিএনজি ও বাস কমে যাওয়ায় যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চালকরা অবরোধ তুলে নেন। বাসাবাড়িতেও গ্যাস না থাকায় হোটেল কিংবা বিকল্প উপায়ে রান্নাবান্নার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
চাঁদপুর প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মীর ফজলে রাব্বি জানান, এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে চাঁদপুরেও স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। জাতীয় সরবরাহ স্বাভাবিক হলে চাঁদপুরেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
এর আগে ১২ আগস্ট বিজিডিসিএল জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতিকূল আবহাওয়ায় এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট বা স্বল্পচাপ তৈরি হয়েছে।









