আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘ব্যবসায়ীদের ওপর খড়গ নেমে আসছে না’ বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ফিসক্যাল (অর্থ সম্পর্কিত) শৃঙ্খলা বাড়ানোর জন্য আমাদের করভিত্তি বাড়ানো দরকার। করভিত্তি বাড়ানোর জন্য আমরা ব্যক্তি পর্যায়ে কর বাড়াচ্ছি না, করভিত্তিটাই বাড়াব।
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস এনবিআর ও অর্থমন্ত্রণালয় যে ভিশন নিয়ে কাজ করছে, আপনারা আগামী বাজেট ও বাজেট পরবর্তীতে এর প্রভাব দেখবেন। আপনাদের জন্য খড়গ আসছে এমনটা মনে করবেন না।’
ঢাকা চেম্বার অব কমার্সঅ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা: বেসরকারী খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে আজ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য। কিন্তু অতীতে এমন কিছু প্রকল্প নেয়া হয়েছে যেগুলোর যথাযথ যৌক্তিকতা ছিল না এবং প্রকৃত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের আওতাধীন বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগের পর্যালোচনায়ও অনেক প্রকল্পে দুর্নীতি ও অকার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, শুধু সরকারী ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করা সম্ভব নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ ব্যবসা প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা জরুরি।
জ্বালানি সংকটে দ্বিগুণ অর্থে তেল-গ্যাস কিনতে হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় দ্বিগুণ দরে গ্যাস ও তেল কিনতে হচ্ছে। কেউই যুদ্ধের পরিকল্পনা বা যুদ্ধের সম্ভাবনা মাথায় নিয়ে সরকার গঠন করিনি। আমরা এটা জানতাম না, ১৫-১৬ দিন পরে এরকম একটা অরাজকতা আসবে। এ বিষয়ে আপনাদের ধারণা দেয়া দরকার। সেটা হলো—যে এলএনজি আমরা কিনতাম ১০ ডলারে আমাদের জিটুজি কন্ট্রাক্টে, স্পট থেকে সেটা কিনতে হচ্ছে ২০ ডলারে। যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমরা কিনতাম ৫০, ৫৫ বা ৬০ ডলারে সেটা কিনতে হচ্ছে ১১৬ ডলারে। এলএনজি, ক্রুড অয়েল ও সার আমদানির খরচ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন, আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কর্মাস (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুবর রহমান।
সভায় মডারেট করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। এতে বাজেট সম্পর্কে মতামত তুলে ধরেন বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা।










