ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে লাগা আগুনের ঘটনায় নিখোঁজ আরো এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মরদেহটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এর আগে আগুন ও হতাহতের ঘটনায় গতকাল সোমবার ঝালকাঠি সদর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের হয়। এ নিয়ে একই থানায় দুটি মামলা দায়ের হলো।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার ও উদ্ধার দলের নেতা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির আনুমানিক বয়স ৩৫ বছর। সুগন্ধা নদীর দক্ষিণ তীর থেকে উদ্ধারকৃত মরদেহের শরীরে পোড়া দাগ রয়েছে। 

আজ পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে সুগন্ধা নদীতে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা সকাল থেকে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সন্ধান চালাচ্ছেন।

এদিকে, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন ও হতাহতের ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে। মো. মনির হোসেন (৩৮) নামে নিখোঁজদের এক স্বজন বাদি হয়ে ২৮০/২৮৫/২৮৭ এবং ৩০৪ক/১০৯ পেনাল কোড ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। ঝালকাঠি সদর থানার এ মামলা নম্বর ১২।

দায়েরকৃত মামলার আসামি অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক, চালকসহ নামধারী ৮ জন এবং অজ্ঞাত ১৫-২০ জন। মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঝালকাঠি সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, অপারেশন) মো. মালেক।

তিনি জানান, ঢাকা ডেমরা এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে মো. মনির হোসেনের লিখিত এজাহারটি গ্রহণ করে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। এ মামলার আসামিরা হলেন- অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখ, লঞ্চে থাকা দুই মাস্টার রিয়াজ সিকদার ও মো. খলিল, দুই চালক মো. মাসুম ও কালাম, সুপারভাইজার মো. আনোয়ার, সুকানী আহসান এবং কেরানী কামরুল।

আগুনের ঘটনায় লঞ্চে থাকা যাত্রী তার বোন তাসলিমা আক্তার (৩২), দুই ভাগনি সুমাইয়া আক্তার মীম (১৫) এবং সুমনা আক্তার তানিশা (১০) এবং ৭ বছর বয়সী ভাতিজা জোনায়েদ ইসলাম বায়জিদ এখনো নিখোঁজ বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন মামলাকারী মনির। এজাহারে তিনি লিখেছেন- ঘটনার রাতে লঞ্চের ইঞ্জিনে যখন ত্রুটি দেখা দেয় তখনো সেখানকার স্টাফরা যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া তুলতে থাকেন। লঞ্চটির নিচতলার পেছনের অংশে থাকা ইঞ্জিন রুম থেকে যখন আগুন ধরে যায় তখন চালক ও স্টাফরা যাত্রীদের বাঁচাতে লঞ্চ তীরে ভেড়ানো বা নোঙর করার চেষ্টাটুকুও করেননি। বরং নিজেরা ঝাপিয়ে পড়ে পালিয়ে গেছে। এজাহারে লঞ্চটিতে নিরাপত্তা সামগ্রীর ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়।

ঝালকাঠিতে লঞ্চ দুর্ঘটনায় এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর একই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়। সেটিতে বাদী হয়েছেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।