কালবৈশাখীতে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। বোরো ধানখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল ভোররাত ৪টার দিকে ভুরুঙ্গামারী সদর, পাইকেরছড়া, চর ভুরুঙ্গামারী, শিলখুড়িসহ বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকায় বৃষ্টির সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ পাত শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী এ ঝড়ে দুই শতাধিক বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি গাছপালা ও বোরো ধানখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক স্থানে গাছ উপড়ে বৈদ্যুতিক তারের ওপর পড়ে। এতে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দুর্ভোগে রয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

উপজেলার পাইকেরছড়া গ্রামের মন্টু মিয়া জানান, ভোররাতে হঠাৎ পাইকেরছড়া গ্রামে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ পাত শুরু হয়। ঝড়ে তার গ্রামের রব্বানী, আমিনুল ও জলিলের বসতঘর ভেঙে পড়াসহ বেশকিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এলাকার কয়েকটি স্থানে গাছ বৈদ্যুতিক তারের ওপর পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য বজলুর রহমান বলেন, ভোররাত ৪টার দিকে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে আমার ওয়ার্ডের ২০-২৫টি পরিবারের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ঝড়ে আমার দুটি ঘরসহ গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজার এলাকার আব্দুল বাতেন জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে তার এলাকার বেশকিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে আমার ইউনিয়নের প্রায় ১০০ পরিবারের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫০-২০০ একর জমির বোরো ধানখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ায় সেগুলো কর্তনকাজ চলছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে লাইন মেরামতে কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

চর ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম ফজলুল হক জানান, ইউনিয়নের আনুমানিক ৫০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তসহ গাছপালা ভেঙে পড়েছে।