সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, সংস্কার কোনো স্থির বিষয় না। এটা একটা অব্যাহত ও চলমান বিষয়। মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনের মতোই একটি অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে সংস্কার দরকার।

রাজধানীতে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম বাংলাদেশ ও ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার ও গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আজ সকালে তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের আগামী দিনে এগিয়ে যেতে হবে। রাজনীতিবিদরা সংস্কারের ধারণা থেকে এবার যে নির্বাচনী ইশতাহার দিয়েছে তার ভেতরে সংস্কারের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা; দুটোই ওঠে এসেছে।

সংস্কারের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পদক্ষেপ নেন। পরবর্তী সময়ে সাইফুর রহমান ভ্যাট চালু ও নমনীয় বিনিময় হার প্রবর্তনের মাধ্যমে অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের প্রণীত প্রতিবেদনগুলোর এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে রাজপথে থাকলেও ক্ষমতায় কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকায় বিষয়গুলো বুঝতে সময় নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি দ্রুত গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তথ্য কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের সব অংশীজনকে নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মালিকপক্ষ, এডিটরস কাউন্সিল ও টেলিভিশন মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে তথ্যের বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। একটি ডিভাইস দিয়েই এখন যে কেউ মতামত প্রকাশ করতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। অতীতের তথ্য ব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমানের ব্যবস্থার বিশাল পার্থক্য রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সমালোচনা সরকারের জন্য সম্পদ হতে পারে, যদি তা প্রোঅ্যাকটিভভাবে নেয়া হয়। তবে সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সমাধান বের করার প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সমাধান তৈরি করতে হবে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যযুদ্ধ এবং বয়ান তৈরির মাধ্যমে বৈশ্বিকভাবে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমস্যার কথা বললেও কার্যকর সমাধান এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, সাইবার বিশ্বে নৈরাজ্য মোকাবেলায় একটি বৈশ্বিক কাঠামোর প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা ও দায়িত্বের মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকতে হবে। কোনটি স্বাধীনতা আর কোনটি নৈরাজ্য—এ সীমারেখা নির্ধারণই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়।

সভায় নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবির, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য শামসুল হক জাহিদ, প্রথম আলোর সৈকত হোসেন মাসুম, ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ, অর্থনীতিবিদ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।