চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশী বিনিয়োগ ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিক নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে । এনসিটি (নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল) পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবেও ইতিবাচক সম্ভাবনা রয়েছে । তবে শ্রমিকদের উদ্বেগ, প্রতিযোগী দেশের সুবিধা এবং জাতীয় স্বার্থ সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-৫ জেটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর যেভাবে এগিয়েছে, সেটি ইতিবাচক। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সম্প্রসারণের আরো সুযোগ রয়েছে। এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবে সম্ভাবনা আছে আবার কিছু প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। আমরা বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছি।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের পেছনেও কিছু যৌক্তিকতা রয়েছে। তাদের দাবির ন্যায্যতা আমলে নিয়েই রাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে সমাধানে পৌঁছাতে চাই। দেশপ্রেমের জায়গা থেকে শ্রমিকরাও তখন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করি।
বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদেশী বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় বাংলাদেশকে আরো কৌশলী হতে হবে। ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, ভারত এসব দেশ বিনিয়োগকারীদের নানা সুবিধা দিয়ে আবার সেখান থেকে লাভও নিচ্ছে। আমাদেরও কিছু ক্ষেত্রে উদার হয়ে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। তবে দেশের ও জনগণের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই অগ্রসর হব।
চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন কিছু প্রকল্প পিপিপি পদ্ধতিতে শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ল্যান্ডলর্ড মডেল বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিছু প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চায়, যা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
ওটিএম বা জি-টু-জি পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এসবই প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া। কোন মডেলটি দেশের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হবে, সেটি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
পরিদর্শনকালে বন্দর কার্যক্রম ঘুরে দেখে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে কিছু বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, বাকি বিষয়গুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, বন্দর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।









