পাইপলাইন লিকেজ করার ঘটনায় চায়না রোড ব্রিজ কন্সট্রাকশন লিমিটেডের (সিআরবিসি) বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে চট্টগ্রামে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। গত ১০ জুলাই চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানায় জিডি করেন জিটিসিএলের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন ভুঞা। 

জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জিটিসিএল উচ্চাপযুক্ত গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে স্থাপিত এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহকৃত এলএনজি ও বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদিত গ্যাস দেশব্যাপী সঞ্চালনের কাজে নিয়োজিত। গভীর সমুদ্রে স্থাপিত এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহকৃত এলএনজি ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের, ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আনোয়ারা ফৌজদারহাট উচ্চচাপ পাইপলাইনের সাহায্যে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।

গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার মাঝেরচর (কাফকো ও বঙ্গবন্ধু টানেলের মধ্যবর্তী স্থানের কর্ণফুলী নদীর আনোয়ারা প্রান্তের চায়না ইপিজেডের নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রোড ব্রিজ কন্সট্রাকশন লিমিটেডের (সিআরবিসি) সাব কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট হারবার কন্সট্রাকশন লিমিটেড ইপিজেডের জেটি নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট কাজ করার সময় জিটিসিএল গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনের ক্ষতি করে।

নদীর তীর থেকে ২৮০ মিটার দূরত্বে এবং পাইপলাইনটি মাটির ১ দশমিক ৫ মিটার গভীরে অবস্থিত থাকলেও সয়েল টেস্ট করার সময় বেজা কিংবা সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ জিটিসিএলের সাথে কোনো অনুমতি বা যোগাযোগ করেনি। জিটিসিএলের উচ্চচাপ পাইপলাইনের উপর রিগ স্থাপন করে কাটারের মাধ্যমে সয়েল টেস্ট করার সময় কাটারের আঘাতে জিটিসিএলের উল্লেখিত পাইপলাইনে লিকেজ হয়ে যায়।

এই পাইপলাইন দিয়ে আগে দৈনিক গড়ে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ হলেও পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে  সেটি দৈনিক ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে শিল্প, বিদ্যুৎ, সার, আবাসিক সহ বিভিন্ন খাতে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে জিটিসিএল কর্তৃক পাইপলাইন মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হলেও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে আরো অন্তত ৫-৭ দিন সময় লাগতে পারে। এই ৭ দিনে দৈনিক গড়ে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি থাকায় তা আগামী ৭ দিনে প্রায় ২ হাজার ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি পড়বে। বিপুল এই ঘাটতি এলএনজির কারণে দেশের বিকাশমান অগ্রগতিতে বিরূপ অবস্থার সৃষ্টি করবে। দেশের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পাইপলাইনের ক্ষতির কারণে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১৫ কোটি টাকা।

এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যবস্থায় যাতে কোনো অচলাবস্থা সৃষ্টি না হয় সেই লক্ষ্যে একটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে পরবর্তী কালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিটিসিএলের ম্যানেজার (ট্রান্সমিশন) ও ইনচার্জ (আনোয়ারা-সিজিএস) সম্পদ দাশগুপ্ত বণিক বার্তাকে বলেন, ৯ জুলাই সন্ধ্যায় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় পাইপলাইন লিকেজ হলেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করে ১১ জুলাই সংকট সমধান করা হয়। ১১ জুলাই সকাল ৬টায় কমিশনিং শুরু করে বেলা ১১টার মধ্যে পাইপলাইনে ঢাকায় এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হয়। ঘটনার পরদিন ১০ জুলাই কর্ণফুলী থানায় জিটিসিএলের  পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।