মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদারবাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনে একটি প্রকল্প হাতে নেয় বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের অধীনে জমিদারবাড়ির সামনের পুকুরে ওয়াকওয়েসহ বেশকিছু উন্নয়নকাজ করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৭০ লাখ টাকা। তবে নির্মাণের তিন বছরেই ওয়াকওয়ের ব্লক ধসে পড়ছে। ওয়াকওয়ে ভেঙে পুকুরে চলে গেছে। সৌন্দর্য হারিয়েছে জমিদারবাড়িটিও।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জমিদারবাড়ির চারদিকে রয়েছে অর্ধশতাধিক পুকুর। বাড়ির সামনের বড় পুকুরের পাশে নির্মাণ করা হয়েছিল ওয়াকওয়ে। কিন্তু ব্লকগুলো সিমেন্ট দিয়ে ভালোভাবে না আটকে কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলী ব্রাদার্স। তিন বছরে ওইসব ব্লক ধসে পুকুরে চলে গেছে। সুন্দর করতে গিয়ে এখন অসুন্দর দেখাচ্ছে জমিদারবাড়ি।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নেয়া প্রকল্পের অধীনে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি জমিদারবাড়ির সামনের পুকুরের তিন পাশে সৌন্দর্যবর্ধন ও পর্যটকের জন্য একটি ওয়াশরুম, ওয়াকওয়ে ও সিবিসি সেন্টার এবং গোলঘর নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৭০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কাজ করার কথা থাকলেও শুরু হয় ২০২০ সালের শেষ দিকে। পুকুরটি চারদিকে দৃষ্টিনন্দন করার জন্য ব্লক বসিয়ে কাজ করা হয়।
তবে ব্লকগুলো সিমেন্ট দিয়ে ভালোভাবে না আটকে কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একই প্রকল্পের অধীনে সিবিসি সেন্টার ও গোলঘর নির্মাণ করা হয়। সিবিসি সেন্টার এখন তালাবদ্ধ। সেন্টারে পর্যটকের মনোযোগ আকর্ষণ বিভিন্ন হাতে তৈরি জিনিসপত্র রাখার কথা ছিল। স্থানীয়ভাবে সিবিসি সেন্টার সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দ দেয়া হয়নি। সেটি এখন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। সেন্টারের সামনেই পর্যটকদের বসা ও বিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল গোলঘর। সে গোলঘরও তালাবদ্ধ।
এ প্রসঙ্গে সাটুরিয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. নাজমুল করিম বলেন, ‘পুকুরের চারপাশের ব্লকগুলো ধসে গেছে। যদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা যেত. হয়তো ওয়াকওয়ে টেকসই হতো। নির্মাণের সময় পুকুরপারে বালি ফেলার কারণে ব্লকগুলোর জোড়া দিয়ে লিকেজ হওয়ায় পানি প্রবেশ করে। এ কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তা রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ওয়াকওয়ের ব্লক ধসে যাওয়া স্থানটি এরই মধ্যে পরিদর্শন করেছি। পুরো ওয়াকওয়েটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। অতিবৃষ্টির কারণে পুকুরের ঘাটলার কাছাকাছি কিছু স্থানে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারা সংস্কার না করলে আমরাই স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে মেরামত করব।’










