কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) জাতীয় শক্তিতে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, দেশে অনেক মেধাবী মানুষ, বিশাল জনসংখ্যা ও সমাধানযোগ্য সমস্যা রয়েছে। তবে এসব সুবিধাকে এআই সক্ষমতায় রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেমের ঘাটতি রয়েছে। প্রতিভাকে প্রযুক্তিতে, প্রযুক্তিকে প্রতিষ্ঠানে এবং প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘এআই অ্যান্ড গভর্ন্যান্স: গ্লোবাল টেকনোলজি আর্কিটেকচার, ন্যাশনাল ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড পলিসি ডিরেক্টিভস’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বিআইআইএসএস।

এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু প্রযুক্তিগত কোনো হাতিয়ার নয়; এটি জাতীয় শক্তি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হয়ে উঠছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুটি প্রতিযোগী এআই ইকোসিস্টেমের নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এ থেকে স্পষ্ট বার্তা হলো, এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

তিনি বলেন, এআইভিত্তিক রূপান্তরের প্রথম বড় ক্ষেত্র হওয়া উচিত সরকারি প্রশাসন। সরকারি ব্যয়, ক্রয়, নিয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, কর, সামাজিক সুরক্ষা ও ফাইল ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগ প্রকল্প প্রণয়ন, মূল্যের যৌক্তিকতা নির্ধারণ ও তদারকিতে এআই ব্যবহার করতে পারে। এতে অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে।

কর্মসংস্থানে এআইয়ের প্রভাব প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘এআই-সহায়ক সরকার’, ‘মানবশূন্য সরকার’ নয়। অদক্ষতা মানুষকে কর্মসংস্থান দেয় বলে শুধু সেই কারণে অদক্ষতা ধরে রাখা উচিত নয়।

তিনি আরো বলেন, এআইয়ের জন্য বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন। তাই জ্বালানি কৌশল নিয়ে আলোচনা ছাড়া দেশের এআই কৌশল নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ডেটা গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা শ্রেণীবিন্যাস ও আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, এআই সরকারি সেবা উন্নত করতে পারে, আবার নতুন ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই এআইকে জনসম্মতির সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, এআই ব্যবহারে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির বিষয়ে উদাসীন থাকার সুযোগ নেই। জবাবদিহি ছাড়া এআই ইন্টিগ্রেশন কোনো সংস্কার নয়, বরং বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে কোথায় ও কেন এআই প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। এরপর ইন্টারঅপারেবিলিটি ও গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মাধ্যমে আন্তঃসংযোগ ও পরিচয় ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। সবশেষে এআই নীতি ও সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার সমন্বয়ে একটি এআই কৌশল প্রণয়ন করতে হবে।

মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান বলেন, উদ্ভাবন অবশ্যই মানবকেন্দ্রিক এবং জবাবদিহিমূলক হতে হবে। এ সময় তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক বৈশ্বিক আলোচনাগুলোতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যাতে জনস্বার্থে অবদান রাখে তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।