ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ইজিবাইকের মেকার মো. ইমদাদ হোসেনের (৪০) ডান চোখ নষ্টের ঘটনায় ৭৫ হাজার টাকায় আপস মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার সকালে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের চক্ষু সার্জন ডা. মীর্জা মাহাবুবুর রহমানের নীচতলার কক্ষে কাঁঠালিয়া উপজেলা ও আমুয়ার ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এ আপস মীমাংসা হয়। এ ঘটনায় ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সদর হাসপাতালের চক্ষু সার্জন মীর্জা মাহাবুবুর রহমানের নামে একটি মামলা তদন্তাধীন। মামলা করেন ভুক্তভোগী মো. ইমদাদ হোসেন। 

জানা যায়, গত বছরের ৩০ অক্টোবর সকালে কাঁঠালিয়ার আমুয়াবাজারে একটি ইজিবাইক মেরামতের সময় মেকার মো. ইমদাদ হোসেনের ডান চোখে লোহার কণা প্রবেশ করে। ওইদিন বিকালে ইমদাদ ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের চক্ষু সার্জন ডা. মীর্জা মাহাবুবুর রহমানের সদর চৌমাথার চেম্বারে দেখাতে যান। সেখানে ডা. মীর্জা মাহাবুব তার চোখের চিকিৎসা করেন।

পরে ইমদাদের চোখে ক্ষত সৃষ্টি হলে ঢাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউটে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, ভুল চিকিৎসার কারণে তার ডান চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই চোখটি তুলে ফেলতে হবে। পরে সেখানকার চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ইমদাদের ডান চোখ তুলে ফেলেন।

ইমদাদ ডান চোখ হারিয়ে গত ৩০ নভেম্বর ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের চক্ষু সার্জন ডা. মীর্জা মাহাবুবুর রহমানের নামে মামলা করেন। বিচারক এএইচএম ইমরানুর রহমান মামলাটি তদন্তের জন্য ঝালকঠি সদর থানায় প্রেরণ করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌতম কুমার ঘোষ অভিযোগের সত্যতা পান। এদিকে চক্ষু সার্জন ডা. মীর্জা মাহাবুবুর রহমান মামলা তুলে নিতে বাদী মো. ইমদাদ হোসেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমেও চাপ দিতে থাকেন। অভিযোগ উঠেছে, কাঁঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. এমাদুল হক ও আমুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম সিকদার ভুক্তভোগী মো. ইমদাদ হোসেনকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করেন।

এক পর্যায়ে ইমদাদ চিকিৎসকের সঙ্গে আপস করতে রাজি হন। গত বুধবার সকালে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের চক্ষু সার্জনের নীচতলার কক্ষে ৭৫ হাজার টাকায় আপস হয়। যদিও তাকে প্রথমে দুই লাখ টাকা দেয়ার প্রলোভন দেয়া হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. ইমদাদ হোসেন বলেন, আমার বাড়ি যশোরে। তিন সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে আমুয়ায় থেকে কাজ করে খাই। তাই স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কথা ফেলতে পারিনি। বাধ্য হয়ে চক্ষু সার্জন ডা. মীর্জা মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে ৭৫ হাজার টাকায় আপস করেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চক্ষু সার্জন মীর্জা মাহাবুবুর রহমান নিজের ভুল স্বীকার করেন। বলেন, ভুল করে ফেলেছি। এখন তো আমাকে ফাঁসি দিলেও তার চোখ ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। এজন্য তিনি ক্ষমা চান।

কাঁঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. এমাদুল হককে বারবার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে আমুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম ফোরকান সিকদার বলেন, ভুক্তভোগী আপস করতে রাজি হয়েছেন। আমরা শুধু মধ্যস্থতা করেছি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গৌতম কুমার ঘোষ বলেন, এ ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। শিগগিরই আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হবে। তবে মামলায় আপস মীমাংসার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।