দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্যকারীদের বয়কট করতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বিদেশীদের মন্তব্য অতিপ্রচারের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলে তারা মজা পায়, তারা নিজেদের সম্রাট মনে করে।’

গতকাল সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে সম্মাননা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৪০ জন মারা গেল। একটা দেশও কথা বলেনি। আমাদের দেশে কে কী করল সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার। এটি অভন্তরীণ বিষয়ের ওপর হস্তক্ষেপ, যা জেনেভা কনভেনশনের ধারেকাছেও নেই।’

পৃথিবীর আর কোথাও অ্যাক্টিভিস্ট রাষ্ট্রদূতরা দল বেঁধে মন্তব্য করে বেড়ান না বলেও এ সময় মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেলা শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পাঁচজনকে সম্মাননা দেয়া হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সিলেট অঞ্চলের অনেক মনীষী আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশিষ্টতা দিয়েছেন। বিশেষ করে হাছন রাজার গান, শাহ আব্দুল করিমের গান, উনাদের সৃষ্টিশীল কর্ম মানুষের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। এর কারণ সম্ভবত এসব গুণীজন একাধারে গান রচনা, সুরারোপ, সংগীতচর্চায় আত্মনিবেদিত ছিলেন। সে কারণে তাদের সৃষ্টি অনন্য এবং অমর হয়ে আছে।’

যারা সম্মাননা পেলেন এবং আগামীতে যারা পাবেন, তারা এসব সৃষ্টিশীল কাজে আরো বেশি মনোনিবেশ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। শেখ হাসিনার সরকার সংস্কৃতিচর্চায় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জেলা, উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলার কর্মকাণ্ড আয়োজনে সরকারি ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে এখন অনেক বাড়ানো হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০২২ পদকপ্রাপ্ত গুণী শিল্পীরা হলেন মিহিরকান্তি চৌধুরী (লোকসংস্কৃতি), পূর্ণিমা দত্ত রায় (কণ্ঠসংগীত), চম্পক সরকার (নাট্যকলা), জ্যোতি ভট্টাচার্য্য (আবৃত্তি) ও মো. মিনু মিয়া (যন্ত্রসংগীত)। সম্মাননা প্রদান আয়োজনের শুরুতেই পপি দাসের সহপরিচালনায় ‘আলো আমার আলো ওগো আলোয় ভুবন ভরা’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা। অনুষ্ঠানে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন গুণী শিল্পীর হাতে সম্মাননা পদক, সম্মাননা চেক, সনদপত্র ও উত্তরীয় তুলে দেন মন্ত্রী।