বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে বন্যার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এতে বন্যাপ্রবণ এলাকায় সংগ্রহের উপযোগী ফসল আগামীকালের মধ্যে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, বার্তা পেয়েই জেলাজুড়ে প্রস্তুতি নেয়া শুরু হয়েছে। চর, নিম্নাঞ্চল এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় ফসল দ্রুত কর্তন করতে বলা হয়েছে কৃষকদের।

বন্যার সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের উজানে ভারতীয় ভূখণ্ডে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ, দেশের উত্তরের তিন বিভাগ রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ভারী বর্ষণ এবং দেশের উত্তরের নদ-নদীতে পানি সমতলে বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে উত্তরের তিন বিভাগের নিচু এলাকাগুলো বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্বল বেড়িবাঁধগুলো ভেঙে নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

সতর্কবার্তায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুর্বল বেড়িবাঁধগুলো মেরামত করে এলাকাগুলোয় বন্যার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ত্রাণ সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নিম্নাঞ্চল ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় সংগ্রহের উপযুক্ত কৃষি ফসল ৫ জুনের আগেই সংগ্রহ ও কর্তন করতে বলা হয়েছে। নতুবা তা বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যার সতর্কবার্তাটি পেয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত। বর্তমানে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এ কারণে পানি বাড়লেও তা সমস্যা হবে না বলে আশা করা যায়। তার পরও বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নদীর তলদেশে সার্ভে করা হচ্ছে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, বন্যা সতর্কীকরণ বার্তাটি আমরা পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই তা মাঠ পর্যায়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জে বেশির ভাগ জমির ফসল কাটা হয়েছে। বোরো ধান প্রায় ৯৪ ভাগ কর্তন শেষ হয়েছে। বাকি যা আছে তা দ্রুত কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের বলা হয়েছে।