বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এ দেশে মেজরিটি মাইনরিটি মানি না। আমরা মানবতাকে টুকরা টুকরা দেখতে চাই না। সংখ্যালঘু আর নিজেদেরকে বলবেন না। কিসের সংখ্যালঘু আর কিসের সংখ্যাগুরু। এ দেশে যে-ই জন্ম নিয়েছে, সে-ই এ দেশের গর্বিত নাগরিক। আমরা নাগরিকদের ভাগ বাটোয়ারা কোনো ধর্ম বা দলের ভিত্তিতে গড়ার পক্ষে নই। এই বোর (বিরক্তিকর) খাসলত ছিল অতীতে পতিত স্বৈরাচারের। তারা এ জাতিকে ভেঙে টুকরা টুকরা করে মুখোমুখি লাগিয়ে রেখেছিল। যে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে না, সে দেশের মানুষ মাথা সোজা করে সম্মানের সাথে দাঁড়াতে পারে না। স্বাধীনতার ৫৪ বছর গেল, আর কত বছর আমাদেরকে এভাবে টুকরা টুকরা করে রাখা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা আমরা কোনো মেজরিটি মাইনরিটি মানি না। আমরা বাংলাদেশকে একটি মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা বাংলাদেশকে আর গডফাদারের দেশ দেখতে চাই না, গডমাদারের দেশ দেখতে চাই না, মাফিয়াতন্ত্রের দেশ দেখতে চাই না, ফ্যাসিবাদের বাংলাদেশ দেখতে চাই না।
আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে পঞ্চগড় জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি ভারতের উদ্দেশে বলেন, ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আমরা ভারতকে অহেতুক কষ্ট দিতে চাই না, ভারতসহ দুনিয়ার সকল দেশ আমরা বিশ্বসভার সদস্য। জাসিসংঘের সদস্য আমরা। তবে আমাদের প্রতিবেশীও যেন আমাদের ওপরে এমন কিছু চাপিয়ে না দেয় যা বাংলাদেশের জন্য সম্মানজনক নয়, বরং অপমানজনক। যদি এরকম কিছু ভারত করে তাহলে সেদিন দেশের স্বার্থে ভূমিকা নিতে কারো চোখের দিকে তাকাব না। আমরা বিবেকের দিকে তাকিয়ে বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হব।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী দিনের বৈষম্যহীন দুর্নীতি দুঃশাসন মুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য তোমাদেরকে আরেকবার গর্জে উঠতে হবে। আমিও তোমাদের সঙ্গে তোমাদের সামনে থাকব। জামায়াতের আমির বলেন, আমাদেরকে ফাঁসির ভয় দেখাবেন না। আমরা শহীদ হওয়ার জন্য উন্মুখ। যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব আমাদের হাতে দেন তাহলে আমরা কোনো বেকার রাখব না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেয়া হবে।
এ সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, দলটির ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী জেলা কমিটি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরিয়ে দেয়া, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম আজহারের মুক্তি এবং জামায়াতে ইসলামীর ৪১ দফা সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এদিকে জনসভায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মীর মোর্শেদ তুহিনসহ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।










