অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি চলছে এবং কর্মসূচি এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে। কর্মসূচির বিপরীতে যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, সব একসঙ্গে করা যাবে না, আমাদের মতো করে করব। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে সব বিষয়ে আলোচনা হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইএমএফের সফররত এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রমজান শুরু হয়েছে এবং যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকট থাকা সত্ত্বেও এবার ঈদে পরিবহন সংকট হয়নি, পরিবহন ভাড়া বাড়েনি মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে এবং ফিরতে পেরেছে। এবার রমজানে দ্রব্যমূল্যও স্থিতিশীল ছিল। এবার গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে সঠিক সময়ে শ্রমিকদের বেতন দেয়া হয়েছে তাই কোন সমস্যা তৈরি হয়নি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নিয়ে অর্থনীতির খারাপ অবস্থা আমরা পেয়েছি। ব্যাংকিং সেক্টর, শেয়ারবাজার খারাপ অবস্থায় আছে এবং কর-জিডিপি হারও অনেক কম। অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব সংকট উত্তরণ সম্ভব। আমরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যেমন-ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ, কৃষি ঋণ মওকুফ ইত্যাদি কাজ করছি। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটার পর একটা পদক্ষেপ নিচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই অর্থনৈতিক কারণে অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্প থমকে গেছে।

আমীর খসরু বলেন, আমরা এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে একটা জায়গা নিয়ে যেতে হবে এজন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থনীতিকে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ডিরেগুলেশন রিফরমস, ব্যবসা সহজীকরণ, ব্যবসায়ের খরচ কমানো ইত্যাদি ব্যাপারে নজর দেয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী বাজেটেই এসবের প্রতিফলন থাকবে।