গত ৯ দিনে বরিশাল জেলার চার থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিএনপির ৪৩৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে পাঁজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বরিশাল জেলার হিজলা, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ ও উজিরপুর থানায় মামলাগুলো হয়। পুলিশের দায়ের করা মামলায় নামধারী সকল আসামিই ওই এলাকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। বিএনপি নেতারা বলছেন, ঢাকায় বিভাগীয় গণসমাবেশ বানচাল করতেই সরকারের নির্দেশে এসব হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করছে পুলিশ।

হিজলা থানার ওসি ইউনুস আলী মিঞা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে হিজলা ডিগ্রি কলেজের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এসআই সোহরাফ বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৬৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।  

দেহেরগতি ইউনিয়নের ঈশ্বর নারায়ণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এসআই হান্নান মিয়া বাদী হয়ে ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ১৫০ জনের বিরুদ্ধে বাবুগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে এ তথ্য জানান।  

উজিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, বামরাইল ইউনিয়নের খোলনার মোড়ে ব্যাটারিচালিত গাড়ি ভাঙচুর ও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৪ নামধারী এবং অজ্ঞাত ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তার থানায়। এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার আসামি জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রাজিব মজুমদার ও জেলা যুবদলের সদস্য সোহান হোসেন ডালিমকে ধামুরা থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনটি মামলাই বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যে দায়ের করা হয়।

এদিকে বাকেরগঞ্জ থানায় এসআই স্বপন কুমার বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৬৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সত্য রঞ্জন খাসকেল জানিয়েছেন, গত ১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা সদরের টিঅ্যান্ডটি মোড় এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। সেখান থেকে অবিস্ফোরিত ককটেলও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করছেন তিনি নিজেই। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জেনে গিয়েছে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও তারা এভাবে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছিল। আর এখন ঢাকায় আমাদের কর্মসূচি বানচাল করতে পুলিশ দিয়ে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করছে। এসব সরকারের সাজানো নাটক। কিন্তু তাতে কাজ হবে না, কারণ জনগণ জেগে উঠেছে।’