মানবিক নয়,দেশের উন্নয়নের ধারণা এখনো পর্যন্ত মূলত অবকাঠামোগত উন্নয়নকে কেন্দ্র করে হয় বলে মন্তব্য করেছেন বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) আয়োজনে ‘অ্যানুয়াল কমিউনিটি অব প্র্যাকটিসেস নেটওয়ার্ক কনভেনশন ২০২৫’ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে অবদানের জন্য এ কনভেনশন থেকেই ১০ জন তৃণমূল নারী জলবায়ু নেত্রীকে ‘ক্লাইমেট চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’ প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের উন্নয়ন দর্শনে মানুষ নেই; আছে রাস্তা, সেতু, ভবন আর মেগা প্রকল্পের হিসাব। নদীর ওপর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু হচ্ছে, অথচ সেই নদীভাঙা মানুষের জীবন-জীবিকার কথা আমরা ভাবি না।

উন্নয়নের দর্শন নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বড় মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি নদীভাঙন ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের মানুষের সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শুধু মেগা নয়, মাইক্রো পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণই হতে পারে উন্নয়নের টেকসই ভিত্তি। উন্নয়নের দর্শনে ‘মানুষ’কে কেন্দ্রবিন্দুতে আনতেই হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, এমপাওয়ার প্রকল্প আমাদের জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রতি গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ দুটি লক্ষ্য একে অপরের পরিপূরক ও টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতা প্রধান দীপক এলমার বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অনুদান কমছে, জলবায়ু প্রভাব বাড়ছে, বৈষম্য বিস্তৃত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ বিশেষত নারী ও মাঠপর্যায়ের নেত্রীরা প্রমাণ করেছেন নেতৃত্ব সবসময় ওপর থেকে আসে না; আসে তাদের কাছ থেকে যারা কাজ করে, অভিযোজন করে ও অন্যদের অনুপ্রাণিত করে।

ইউএন উইমেন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলী সিং বলেন, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও কমিউনিটি রেজিলিয়েন্সে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক নেতৃত্বের উদাহরণ। ইউএন উইমেন - বাংলাদেশের সরকার, এমজেএফ ও অংশীদারদের সঙ্গে মিলে জলবায়ু-সহনশীল ও জেন্ডার সমতাভিত্তিক ভবিষ্যৎ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ।