গতকাল জেলার পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নে সানিয়াজান নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানি ধরে রাখতে বর্তমান তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে আরো একটি ব্যারাজ নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছে সরকার গঠিত কারিগরি কমিটি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন।’

তিনি আরো জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং অবকাঠামো পুনর্বাসনে সরকারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর পাটগ্রাম থানা ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

এর আগে সকালে হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি এলাকায় জেলার প্রথম সমতলের চা বাগান ‘সোমা চা-বাগান’ পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘চা চাষ লালমনিরহাটের অর্থনীতি ও কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পরিকল্পিত চাষাবাদ, আধুনিক পরিচর্যা, প্রক্রিয়াজাত ও সুষ্ঠু বিপণন নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের চা শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখতে পারে।’

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, চা বাগানের উদ্যোক্তা শাহান আরা বেগম সোমা, ফেরদৌস আলমসহ স্থানীয় অন্যরা বক্তব্য দেন।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘লালমনিরহাটের মাটি, ভূ-প্রকৃতি ও আবহাওয়া চা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিস্তীর্ণ সমভূমিতে চা চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে লালমনিরহাটেও চা শিল্পকে একটি শক্তিশালী ও লাভজনক কৃষিভিত্তিক শিল্পে পরিণত করা সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, চা বাগানের উদ্যোক্তা শাহান আরা বেগম সোমা, ফেরদৌস আলমসহ স্থানীয় অন্যরা বক্তব্য দেন।

মন্ত্রী চা শিল্পের বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘চা শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়—এটি গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র হতে পারে। এ শিল্পের সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা, পরিবহন ও বিপণনসহ বহু মানুষ সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

উল্লেখ্য, রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে চা শিল্পে সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে এগিয়ে আসছে লালমনিরহাট। জেলার পাঁচটি উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ২০০ একর জমিতে চা বাগান গড়ে উঠেছে। এসব বাগানে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৪০০ টন চা পাতা উৎপাদিত হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চা পাতার প্রক্রিয়াজাতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও স্থানীয় চা বাগান মালিকদের যৌথ উদ্যোগে ‘সোমা অ্যান্ড সোমা টি প্রসেসিং লিমিটেড’ নামে একটি চা প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত চা পাতার মূল্য সংযোজন ও বাজারজাতের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।