বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাড়তে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। এতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলের কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সিলেটের চারটি উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। গতকাল বুধবার (২৯ মে) থেকেই সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা ও সারিগোয়াই নদীর পানি ছিল বিপদসীমার ওপরে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি কমছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। অপরদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি কমতে পারে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এ অঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা ও সারিগোয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে থাকবে। এতে এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হবে। দেশের ১১০টি পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৪৮টি স্টেশনে পানি বেড়েছে। এর মধ্যে চারটি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা অমলশীদ স্টেশনে ২২০ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও শেওলা পয়েন্টে স্টেশনে ১৪৪ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট স্টেশনে ১৯৬ সে.মি. বেড়ে বিপদসীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার ও সারিগোয়াইন নদীর পানি সারিঘাট স্টেশনে ২০২ সে.মি বেড়ে বিপদসীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে সিলেটের জাফলংয়ে ৩৫৫ মিলিমিটার, লালাখানে ১৫০, কানাইঘাটে ৭৯, জকিগঞ্জে ৬৬, লাটু ৬৫ ও কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।










