ইরানের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক কূটনীতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরো জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আল জাজিরা।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন। ‘পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে’—শিরোনামের শেয়ার করা পোস্টটিতে তিনি নিজে কোনো মন্তব্য যোগ করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যুক্ত হতে একটি নতুন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। পরবর্তীতে এ পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত একজন ব্যক্তি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-কে জানান, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ তথ্য প্রথম প্রকাশ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। অঞ্চলটিতে জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন হলে মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও তাদের সহায়ক যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর নীতির পক্ষে জোর দিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু।তবে বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রতি নিজের অগ্রাধিকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কোনো চুক্তি করা সম্ভব কি না, তা দেখার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমি জোর দিয়েছি—এর বাইরে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্প্রতি ওমানে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত প্রথম দফা পরোক্ষ বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় পক্ষই কূটনৈতিক পথ অব্যাহত রাখার কথা বললেও নতুন করে আলোচনার কোনো সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।

এরমধ্যে তেহরান সতর্ক করেছে, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যেন ইসরায়েলের মাধ্যমে ভেস্তে না যায়। ইরানের নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানি আল জাজিরাকে বলেন, আমাদের আলোচনা একান্তই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সংলাপ নেই। কিন্তু ইসরায়েল এ প্রক্রিয়ায় নিজেকে ঢুকিয়ে আলোচনা নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে।

তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করতে নেতানিয়াহু চাপ দিচ্ছেন এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি যতদিন চাই ততদিন তাদের সঙ্গে কথা বলব। দেখা যাক, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায় কি না।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি চুক্তি চায় যাতে ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র না থাকে। তবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রতিরক্ষামূলক আর এটি কখনো আলোচনার বিষয় নয়।