যশোরে আদালত থেকে হাজতখানায় নেয়ার পথে জুয়েল খান নামে হত্যা মামলার এক আসামি হ্যান্ডকাপসহ পালিয়েছে। গতকাল বিকাল ৩টার দিকে জেলা দায়রা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ বলছে, ২০২১ সাল থেকে জুয়েল কারাগারে বন্দি ছিল। বাঘারপাড়ার বিচারাধীন হত্যা মামলায় যুক্তিতর্কে উপস্থাপনের ধার্য দিনে গতকাল তাকে আদালতে আনা হয়েছিল। পলাতক জুয়েল মাগুরা জেলার শালিকা উপজেলার রামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশ বলছে, মাগুরার শালিখা উপজেলার হরিশপুর গ্রামের ইজিবাইক চালক আল-আমিন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি জুয়েল। ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর মাগুরা থেকে আল-আমিনের ইজিবাইক ভাড়া করে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বুধোপুর গ্রামে এনে তাকে হত্যা করে এবং ইজিবাইক নিয়ে চম্পট দেয় জুয়েলসহ তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় বাঘারপাড়া থানায় মামলা হয়। ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর র্যাব-৬ খুলনার স্পেশাল টিম জুয়েলসহ মামলার চার আসামিকে আটক করে এবং তারা হত্যার ঘটনা স্বীকার করে। পরে তাদের বাঘারপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। এর পর থেকেই জুয়েল কারাগারে আটক ছিল।
আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, এক কনস্টেবল তাকে নিয়ে হাজতখানায় যাচ্ছিলেন। এ সময় নিচ তলার সিঁড়ির কাছে পৌঁছলে কৌশলে জুয়েল খান পালিয়ে যায়।
পরে কনস্টেবল চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন তাকে তাড়া করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পলাতকের খবর শুনে তারা পিছু ধাওয়া করেন। এ সময় জুয়েল জজ আদালতের সামনের গেট দিয়ে বের হয়ে মসজিদের সামনে দিয়ে দৌড়ে আইনজীবী সহকারী সমিতির কার্যালয়ের পাশ দিয়ে খড়কির দিকে চলে যায়।
এদিকে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাসার, কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাতসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আদালতে ছুটে যান। একই সঙ্গে পুলিশের একাধিক টিম জুয়েলকে খুঁজতে অভিযানে নামে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট অভিযানে রয়েছে।
কোর্ট ইন্সপেক্টর রোকসানা খাতুন বলেন, ‘জুয়েলকে খোঁজা হচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।’










