ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার কারণে ৪ দিন বন্ধ থাকার পর সোমবার চালু হয় চট্টগ্রাম-ঢাকা ট্রেন চলাচল। প্রথম দিন মাত্র দুই জোড়া চললেও মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) থেকে পুরোদমে ট্রেন সার্ভিস চালানোর কথা ছিল। তবে ফেনীতে রেলপথের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় ২৭ আগস্ট ও ২৮ আগস্ট ২টি ট্রেনের যাত্রা স্থগিত করেছে রেলওয়ে। ঝুঁকি এড়াতে ফেনীর ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ দিয়ে ন্যুনতম গতিতে ট্রেন চালাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২৬ আগস্ট তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১/৭৪২), চট্টগ্রাম মেইল (২ ডাউন), ঢাকা মেইল (১ আপ) এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন চলাচল করেছে। ২৭ আগস্ট আগের চলাচল করা ট্রেনগুলো ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর প্রভাতী (৭০৪), সুবর্ণ এক্সপ্রেস (৭০২), কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (৪ ডাউন) যাত্রী পরিবহন করবে। এই দিন চট্টগ্রাম থেকে মহানগর গোধূলী (৭০৩) ও কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (৩ আপ) যাত্রী পরিবহন করেছে। অপর দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করেছে পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৫)। চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭১৯), উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৪) যাত্রী পরিবহন করবে।  চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটের সাগরিকা এক্সপ্রেস (২৯ আপ ও ৩০ ডাউন) ছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জ্বালানিবাহী ট্রেন এবং চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রামের কনটেইনার ট্রেন চলাচল করেছে।

রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ বলছে, বন্যায় ফাজিলপুর-ফেনী সেকশনে আপ লাইন (চট্টগ্রাম-ঢাকা মুখী রেলপথ) ফিট পাওয়া যায়নি। লাইনটির প্রায় ১০ কিলোমিটার রেলপথের অধিকাংশই ওয়াশআউট হয়ে রেলপাত ও স্লিপার ছাড়া মাটি ও পাথর রেললাইন থেকে সরে যায়। পাথরের নিচে মাটি ও বালি নরম হয়ে যায়। রেলপথটি মেরামত করতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে প্রকৌশল বিভাগের। যার কারণে ডাউন লাইন (ঢাকা-চট্টগ্রামমুখী রেলপথ) ২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে ফিট দেয় প্রকৌশলীরা। ফলে একটি মাত্র রেলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ ট্রেন চলাচল করলে ট্রেনের বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। সে কারণে ২৭ ও ২৮ আগস্ট চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের ১৫টি ট্রেন মঙ্গলবার যাত্রী পরিবহন করেনি।

২৭ আগস্ট বাতিল হওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের সুবর্ণ এক্সপ্রেস (৭০১), মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১/৭২২), সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (৭৮৮), চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১/৮০২),  ঢাকা-নোয়াখালী রুটের উপকূল এক্সপ্রেস (৭১১), চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২০/৭২৩), চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটের মেঘনা এক্সপ্রেস (৭২৯/৭৩০), ঢাকা-কক্সবাজার রুটের এক্সপ্রেস (৮১৪) ও পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৬) যাত্রী পরিবহন করেনি। অপরদিকে আগামীকাল বুধবার চাঁদপুর-চট্টগ্রামের মেঘনা এক্সপ্রেস (৭৩০), চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১) যাত্রী পরিবহন করবে না।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ফেনীতে ভয়াবহ বন্যার কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। প্রথম দিন মাত্র তিন জোড়া ট্রেন চলাচল করলেও মঙ্গলবার প্রায় অর্ধেক ট্রেন চলাচল করেছে। আগামীকালও বেশ কয়েকটি ট্রেনে যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে। এরপর থেকে পূর্বাঞ্চলের সবগুলো ট্রেনই যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। ফেনীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ দিয়ে আপাতত ধীরগতিতে ট্রেন চালানোর কারণে শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কায় সীমিত আকারে ট্রেন চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পুরোটাই ডাবল লাইন হলেও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম-ঢাকার আপ লাইনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে একটিমাত্র লাইন অর্থাৎ ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাউন লাইনের মাধ্যমে ট্রেনের গতিসীমা কমিয়ে ট্রেন চালানো হচ্ছে। আগে এই পথ দিয়ে ৬৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার গতিবেগে মিটারগেজ ট্রেন চলাচল করত। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উভয় পথের মাটি, পাথর ও ট্র্যাকের সংস্কার শেষে পর্যায়ক্রমে পুরনো গতিতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা।