নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় রেললাইনের পাশ থেকে পাঁচ তরুণের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার মেথিকান্দা রেলস্টেশনসংলগ্ন কমলপুর এলাকায় রেললাইনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মরদেহগুলো গতকাল সকালের দিকে উদ্ধার করা হয়। রেলওয়ে পুলিশের ধারণা, ট্রেনে কাটা পড়ে এ পাঁচ তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনো তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় লোকজন জানান, রেললাইন ধরে হাঁটতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি গতকাল সকাল ৮টার দিকে ওই পাঁচ তরুণের ছিন্নবিচ্ছিন্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের মধ্যে তিনজনেরই দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন ছিল। দুজনের দেহ ছিল দ্বিখণ্ডিত। পরে খবর দিলে রেলওয়ে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। ১৫ গজ দূরত্বের মধ্যে এগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। 

পুলিশ ধারণা করছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা মেইল ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে কিংবা রেললাইনে বসে থাকা অবস্থায় পাঁচ তরুণ ট্রেনে কাটা পড়ে। আবার এমনও হতে পারে, তাদের হত্যার পর মরদেহগুলোকে রেললাইনে ফেলে রাখা হয়। পরে সেগুলো ট্রেনে কাটা পড়ে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি রেলওয়ে পুলিশ। 

জানতে চাইলে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির (ইনচার্জ) উপপরিদর্শক মো. শহীদুল্লাহ জানান, নিহতদের মধ্যে চারজনের বয়স ১৮-২০ বছরের মধ্যে হবে। অন্য তরুণের বয়স ২০ বছরের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

মেথিকান্দা স্টেশনের স্টেশনমাস্টার আশরাফ আলী জানান, এ পাঁচ তরুণ ট্রেনের ছাদ থেকে পিছলে পড়ে কাটা পড়েছেন, নাকি রেললাইনে বসে থাকা অবস্থায় কাটা পড়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিহতরা স্থানীয় কেউ নন বলে জানা গেছে। 

এদিকে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় মেথিকান্দার রেলগেট এলাকায় ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রেনে কাটা পড়ে আরো এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) আফসান আলম বলেন, ‘পৃথক স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে ছয়জন মারা গেছেন। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে কেউই তাদের পরিচয় চিহ্নিত করতে পারেননি। তাই ধারণা করা হচ্ছে, তারা দূরবর্তী স্থানের লোক। মরদেহ উদ্ধারের আগে ঢাকামুখী তিনটি ট্রেন চলাচল করেছে। এর মধ্যে কোনো এক ট্রেনের মাধ্যমে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’