ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উপকূলী জেলা পিরোজপুরে সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রবাহিত হচ্ছে দমকা হাওয়া। এদিকে জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মাঝেরচরে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছে। আজ বুধবার সকাল ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম।

আজ বুধবার সকালে ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। মোংলার পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরও এই ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতাধীন। জেলাটির উপকূলীয় উপজেলা মঠবাড়িয়ার বেতমোর রাজাপাড়া ইউনিয়নে বিষখালী নদীর একটি চর মাঝেরচর।

শহীদুল ইসলাম জানান, সকাল সারে ৯টার দিকে মাঝের চরের বেড়িবাঁধের দক্ষিণ পশ্চিম অংশের ১শ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে। এতে ৬০ থেকে ৬৫ একর জমিতে থাকা মিষ্টি আলু, চুনাকুমড়া, মরিচ, মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক সবজি ভেসে গেছে। এতে করে চাষীদের অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান করেন তিনি।

তিনি জানানা, মাঝের চরে থাকা লোকজনের মধ্যে বেশীরভাগ লোক আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। আর যাদের আত্মীয় স্বজন এপাড়ে (মঠবাড়িয়ার পাড়ে) আছে তারা এসে এ পাড়ে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উর্মি ভৌমিক জানান, এই চরে থাকা বৃদ্ধ ও শিশুদের এরই মধ্যে মঠবাড়িয়া প্রান্তে এনে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আবার অনেকেই আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তারপরও সেখানে থাকা লোকজনের অবস্থা জানতে তিনি মাঝের চরে যাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানাগেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার লোককে বিভিন্ন উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রে এনে রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজনকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।