এক-এগারোর সময়ের আলোচিত এ সেনা কর্মকর্তা ‘ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির এমডি।
রাজধানীর বারিধারা থেকে গত সোমবার রাতে ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্যমতে, তার বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ছয়টি মামলা রয়েছে। আর ঢাকা মহানগর এলাকায় মামলা আছে আরো পাঁচটি। তাকে পল্টন থানার মানব পাচারের অভিযোগে করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের এসআই রায়হানুর রহমান। ‘সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানব পাচারের’ অভিযোগে এ মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার ১০১ আসামির মধ্যে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নাম রয়েছে ৩ নম্বরে।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে মাসুদ উদ্দিনের পক্ষে তার আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন চান।
শুনানিতে ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, ‘২৪ হাজার কোটি টাকা তারা আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে বিদেশে পাঠিয়েছে, যেখানে মূল হোতা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। টাকাগুলো কোথায় পাচার করা হয়েছে এবং দেশের ভেতরে কার নামে বা বেনামে রেখেছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য প্রাথমিকভাবে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক। পরবর্তী সময়ে আরো প্রয়োজন হলে চাইব।’ শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ জামিন নাকচ করে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পাঁচদিন রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
এদিকে শুনানি শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে হাজতখানার উদ্দেশে নবম তলার আদালত থেকে বের করা হয়। পরে লিফট থেকে নিচতলায় নেমে কিছুটা হেঁটে সামনে আসার পর পেছন থেকে এক ব্যক্তি তার গায়ে ময়লা পানি ঢেলে দেন। ওই ব্যক্তি আগে থেকে নীল পলিথিনে ময়লা পানি নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে জানা যায়। তাৎক্ষণিক কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা চেষ্টা করেও ওই ব্যক্তিকে থামাতে পারেননি।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিংয়ের (জিওসি) দায়িত্বে ছিলেন। এক-এগারোর পটপরিবর্তনে অন্যতম প্রধান ভূমিকায়ও ছিলেন তিনি। তখন গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। এ কমিটির অধীনেই তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়।
২০০৮ সালে মাসুদ উদ্দিন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তার চাকরির মেয়াদ বাড়ায়। অবসরগ্রহণের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ফরম কিনে জমা দেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে (জাপা) যোগ দিয়ে দুই দফায় সংসদ সদস্য হন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্ষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদও পান তিনি।










