ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের দাপ্তরিক কক্ষ থেকে গায়েব হয়েছে পরীক্ষার নম্বরপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথি। বিষয়টি নিয়ে ত্রিশাল থানায় জিডি করা হয়েছে। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সাংবাদিকরা খোঁজ করতে গেলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অবশেষে ৩ মার্চ রাতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা নাজ স্বর্ণপ্রভা গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ত্রিশাল থানায় করা এক সাধারণ ডায়েরিতে জানান, বিভাগের পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম শেষে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার দিকে কলা ভবনের নিচতলার ব্যক্তিগত কক্ষটি তালাবদ্ধ করে বাসায় যান তিনি। পরদিন সকাল ১০টার সময় তিনি ওই কক্ষে এসে দেখতে পান তার কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা, অফিশিয়াল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও গোপনীয় নথি, একাধিক শিক্ষাবর্ষের গোপনীয় নম্বরপত্র, পরীক্ষার উত্তরপত্র, উপস্থিতি রেজিস্ট্রার খাতা, পেন ড্রাইভ নেই। তবে সেখানে অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা হতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষক ফারজানা নাজ স্বর্ণপ্রভার ভাষ্য, সেদিন শিক্ষার্থীদের রিহার্সাল করাতে অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো সেখানে রেখে যাই। কিন্তু রাতের ৯ ঘণ্টার মধ্যেই তা চুরি হওয়া মানে স্পষ্টই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হুমায়ুন কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাকে জানানো হয়েছিল, যে জিনিসগুলো মিসিং ছিল তার বেশির ভাগই তারা উদ্ধার করতে পেরেছেন। পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে আলাপ করে জানতে পারলাম আসলে সেগুলো পাওয়া যায়নি। যেহেতু দুজনের কথার মধ্যে গরমিল পাওয়া গেছে সেজন্য আমাদের তদন্তকাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। আমরা দ্রুতই অধিকতর তদন্ত করে মূল ঘটনা বের করার চেষ্টা করব।

বৃহস্পতিবার রাতে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমেদুল বারীকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।