শীতের শেষে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদসহ প্রাচীনতম নিদর্শন দেখতে ভিড় বেড়েছে দেশী-বিদেশী পর্যটকের। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল পর্যটক ছিল কয়েক গুণ বেশি। সকাল থেকেই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মসজিদ প্রাঙ্গণ। এদিন প্রায় ছয় হাজার পর্যটক এসেছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। শুধু ষাটগম্বুজ মসজিদ নয়, খানজাহান আলী (রহ.) মাজার, বাগেরহাটের চন্দ্রমহল, সুন্দরবন রিসোর্ট, পৌর পার্কসহ মুনিগঞ্জ ও দড়াটানা সেতুতেও পর্যটকের ভিড় ছিল।
নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে ষাটগম্বুজ মসজিদে ঘুরতে আসা রিতা আকতার বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ে পড়েছি বাগেরহাট হলো মসজিদের শহর। এত বছরের প্রাচীন সব মসজিদ দেশের কোথাও দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছা ছিল ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখার। কিন্তু সময় করতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করে এবার সবাই মিলে এলাম। মসজিদটি দেখে খুব ভালো লেগেছে।’
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে আসা রহুল আমিন বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল, তাই ছুটির দিন সকালে বন্ধুরা মিলে বাগেরহাট এসেছি। ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখে ভালো লেগেছে। পরিবেশটাও ভালো। মসজিদে নামাজ পড়ে প্রশান্তি পেয়েছি। এখানে হাজার হাজার দর্শনার্থী দেখে আরো বেশি ভালো লেগেছে।’
ঐতিহাসিক স্থান দেখতে চট্টগ্রাম থেকে আসা অনিতা রায় বলেন, ‘চাকরির কারণে সময় করে আসতে পারি না। তবু ভাবলাম দেশের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখা দরকার। পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার পর এখন যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনেক ভালো। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে এলাম ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে।’
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাগেরহাটের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, ‘শীতের শেষে ষাটগম্বুজ মসজিদসহ জেলার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোয় দর্শনার্থীর ভিড় বেড়েছে। তবে অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবার কয়েকগুণ বেশি দর্শনার্থী ছিল। জনবল কম থাকায় ভিড় সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। পর্যটকের জন্য ২০ জন আনসার সদস্য ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন।’










