যশোরের আট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ অন্যান্য পদ রয়েছে ১ হাজার ৭৯৬টি, যার মধ্যে প্রথম শ্রেণীর চিকিৎসকসহ ৩০ শতাংশের বেশি জনবল শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পর্যায়ে এসব পদ শূন্য থাকায় ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে।
তবে সিভিল সার্জন বলছেন, ডিগ্রিধারী মেডিকেল অফিসারদের পদায়ন করা হলে বিশেষজ্ঞ পদগুলো সহজে পূরণ হবে। গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রিধারী মেডিকেল অফিসারদের বিশেষজ্ঞ পদে পদায়নের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত এ সংকট কেটে যাবে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৫৪৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীর চিকিৎসকের পদ শূন্য ৬২টি। দ্বিতীয় শ্রেণীর চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে ২৪টি। এছাড়া সার্জারি বিভাগে জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও জুনিয়র মেডিসিন কনসালট্যান্টর ১৪টি পদই শূন্য। নতুন সৃষ্ট অর্থোপেডিকস বিভাগে জুনিয়র কনসালট্যান্টর তিনটি, কার্ডিও জুনিয়র কনসালট্যান্ট তিনটি, চক্ষু কনসালট্যান্ট তিনটি, ইএনটি জুনিয়র কনসালট্যান্ট তিনটি এবং চর্ম ও যৌন বিভাগে জুনিয়র কনসালট্যান্টর তিনটি পদে চিকিৎসক নেই। এছাড়া সহকারী সার্জনের ৭০টি পদের মধ্যে খালি রয়েছে চারটি। মেডিকেল অফিসারের ৩৭টি পদের মধ্যে ছয়টিতে জনবল নেই। অ্যানেসথেসিয়ার আটটি পদের মধ্যে পাঁচটিই শূন্য। চিকিৎসক ছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদ প্রায় শতভাগই শূন্য।
এ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে অনেক পদই শূন্য রয়েছে। জনগণের সেবা দিতে জনবল নিয়োগ দরকার। তার চেয়ে বেশি দরকার চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ পদে পদোন্নতি দেয়া। অনেক মেডিকেল অফিসার রয়েছেন, যারা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। ওইসব ডিগ্রিধারী মেডিকেল অফিসারকে পদায়ন করা হলে বিশেষজ্ঞ পদগুলো সহজে পূরণ হতো।’ তবে দেরিতে হলেও গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রিধারী মেডিকেল অফিসারদের বিশেষজ্ঞ পদে পদায়ন করার প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে সাধারণত জুনিয়র কনসালট্যান্ট থেকে ধরা হয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব পদ থাকলেও তা কখনো পূরণ হয়নি। কোনো কোনো চিকিৎসকের পদ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে গ্রামের মানুষ উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে তাদের ছুটতে হচ্ছে জেলা শহরে।
ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পায়ের ব্যথায় ভুগছেন। ২৬ ফেরুয়ারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে পাঠিয়ে দেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো অর্থ নেই। যে কারণে যেতে পারছেন না।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রশিদুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৩টি পদ থাকলেও কর্মরত ১৫ জন। অন্যান্য পদেও প্রয়োজনের তুলনায় লোকবল নেই। যে কারণে চিকিৎসা সেবায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।’
বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রামের রফিকুল বিশ্বাস পাঁচ মাস আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে শয্যাশায়ী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না থাকায় তাকে ছুটতে হয়েছে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। তবে সেখানে যাতায়াতে তার প্রতিদিন ২০০ টাকা খরচ হয়। কোনো কোনো সময় টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারেন না তিনি।
এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যশোর ছাড়াও আশপাশের তিনটি জেলা থেকে রোগী আসে। প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে ১২-১৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নেয়। ভর্তি রোগী থাকে ৪০০-৪৫০। এতে চিকিৎসক ও সেবিকাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক থাকলে এ চাপ পড়ত না। গ্রামের মানুষ বিশেযজ্ঞ চিকিৎসক না পেয়ে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আসছে।’










