ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে আজ গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলা থেকে আগত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা বসেছিল। ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস্ অ্যাসোসিয়েশন অব কোটালীপাড়া (ডুসাক) আয়োজিত আজকের এই ‘ইফতার মাহফিল ও নবীন বরণ-২০২৪’ অনুষ্ঠানে ঢাবির অধ্যাপক জীবন থেকে অবসর নেয়া প্রবীন থেকে শুরু করে সদ্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দেয়া তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

এই ইফতার মাহফিল ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান আলোকিত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রাচ্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মলয় বালা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সাবেক চেয়ারপার্সন ও সহযোগী অধ্যাপক নমিতা মন্ডল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকার প্রথম সচিব ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক অরুণ কুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক শাহ আলম শাওন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মাহমুদ, সাবেক ছাত্রনেতা ডিএম সাব্বিরসহ স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।

 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডুসাকের সাধারণ সম্পাদক রাসেল সিকদার, সার্বিক সহযোগিতায় ছিল সভাপতি পবিত্র পাল ও ডুসাকের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে ২০২৪ ও ২০২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেয়া হয় ও তাদের অভিনন্দন জানানো হয়।


 

অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, সহযোগী অধ্যাপক নমিতা মন্ডল, কথাসাহিত্যিক অরুণ কুমার বিশ্বাস তাদের বক্তব্যে নিজেদের শিক্ষা জীবনের স্মৃতিচারণ করার পাশাপাশি সদ্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কোটালীপাড়ার শিক্ষার্থীদের নানা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কোটালীপাড়া উপজেলার ছাত্র-ছাত্রীদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের উদ্দেশে ২০১৪ সালে ডুসাক গঠিত হয়। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এই সংগঠনটি মফস্বল থেকে সদ্য উঠে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নানাভাবে সহযোগিতা করে। ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায় তারা। এছাড়া প্রতি বছর যেসব শিক্ষার্থী এই  বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তাদের সংবর্ধনা দিয়ে অনুপ্রেরণা জোগায় ডুকাস।

 

নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারীতে এলাকাবাসীর পাশেও দাঁড়ায় ডুসাকের সদস্যরা। আর প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল ও মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। বর্তমান ও সাবেকদের মধ্যে দারুণ এক সংযোগ তৈরির ক্ষেত্রে অমূল্য অবদান রাখছেন ডুসাক।