ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন ও পণ্যবাহী ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ঈদ-পূর্ববর্তী সংকটে পড়েছে রেলওয়ে। ঈদের অগ্রিম টিকিট ১১ দিন আগে বিক্রি হয়ে গেলেও বিদ্যমান কোচ দিয়ে রেক (কোচের সমন্বয়ে তৈরি ট্রেন) তৈরি করতে পারেনি রেলওয়ে। বাধ্য হয়ে নতুন আমদানি করা কোচে ঝুঁকি নিয়েই সোনার বাংলা ট্রেন চালু করছে রেলওয়ে।
রোববার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী বিরতিহীন সোনার বাংলা (৭৮৭ নং ট্রেন) এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনের সঙ্গে ঢাকামুখী আরেকটি পণ্যবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে সোনার বাংলা ট্রেনের সাতটি কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অধিকাংশ কোচের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। একই রেক দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী সোনার বাংলার ট্রেন চালানো হয়। ফলে গতকালের চট্টগ্রামমুখী সোনার বাংলা ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে রেলওয়ে। ফিরতি রেক দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বিকালের সোনার বাংলা ট্রেন চালানোর কথা থাকলেও সেটিও চালাতে পারেনি রেলওয়ে। বাধ্য হয়ে কোরিয়া থেকে আমদানি করা নতুন কোচ দিয়ে ট্রেন চালিয়েছে রেলওয়ে। সরকারি রেল পরিদর্শকের (জিআইবিআর) ইন্সপেকশন ছাড়াই নতুন কোচ দিয়ে ট্রেন চালানোর কারণে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরির শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা।
দুর্ঘটনা-পরবর্তী রেলের তাৎক্ষণিক সিচুয়েশন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দুর্ঘটনায় তিনটি এসি কোচ, তিনটি শোভন চেয়ার কোচ, একটি গার্ড ব্রেক কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী কনটেইনারবাহী ট্রেনের (৬০১ নং ট্রেন) দুটি বিএফসিটি ও একটি গার্ড ব্রেক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর লাকসাম ও আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার করার পর অক্ষত থাকা সাতটি কোচকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী শেডে নিয়ে আসা হয়। ঈদের যাত্রী পরিবহন গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় রেলওয়ে বহর থেকে কোচ দিয়ে নতুন একটি রেক বা ট্রেন সাজানোর পরিকল্পনা করলেও মজুদস্বল্পতায় ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয়ে কোরিয়া থেকে সদ্য আমদানি হওয়া মিটার গেজ কোচ দিয়ে সোনার বাংলা ট্রেনের নতুন রেক সাজানো হয়েছে। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে রাত ১০টার দিকে ট্রেনটি ৫ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যায়।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে রেলের দুর্ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ কারণে ট্রেন বন্ধ না রেখে যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বিকল্প উপায়ে ট্রেনটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলক চলাচলে সবকিছু অনুকূলে থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই নতুন কোচ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কোচগুলো মেরামত সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে রেলের সংশ্লিষ্ট ট্রেনে সংযোজন করা হবে।’
রেলের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কোরিয়া থেকে ১৫০টি কোচ আমদানি প্রক্রিয়াধীন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দুই চালানে ৪০টি কোচ আমদানি হয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এসব কোচের ট্রায়াল রানও করা (পরীক্ষামূলক চালনা) হয়। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় দেড় হাজারের কিছু বেশি কোচ থাকলেও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে রয়েছে ৪৫০-৫০০টি কোচ। এসব কোচ দিয়ে ২৫টি আন্তঃনগর ট্রেন চালানো হয়। চাহিদা অনুযায়ী কোচ সংকটের কারণে ঈদসহ প্রায় সময়ই মজুদ বা স্পেয়ার কোচ ট্রেনের সঙ্গে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়। এ কারণে একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার পরও স্পেয়ার কোচ দিয়ে নতুন কোনো ট্রেন কম্পোজিশন সাজাতে পারেনি রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সোনার বাংলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের সাতটি কোচ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন রেক সাজাতে নির্দেশনা দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পূর্বাঞ্চলে দুটি এসি কোচ ও দুটি শোভন চেয়ার কোচ ছাড়া মজুদ আর কোনো কোচ ছিল না। কিন্তু সোনার বাংলা ট্রেনের তিনটি এসি কোচ, তিনটি শোভন চেয়ার কোচ ও একটি গার্ড ব্রেকের জন্য ঈদের টিকিট বিক্রি করায় যাত্রীভোগান্তি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।










