রংপুর জেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও দ্বিগুণের বেশি চাল সংগ্রহ করেছে খাদ্য বিভাগ। ২০২৩-২৪ মৌসুমে আমন ধান-চাল সংগ্রহের শেষ দিন ছিল গতকাল। তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা এ অভিযানে ৬ হাজার ৩৮ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১৮১ দশমিক ৪০০ টন। তবে ১১ হাজার ৬০৭ টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ২৫ হাজার টন।
মৌসুমের শুরু থেকে হাট-বাজারে ধানের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এ কারণে কৃষক খাদ্যগুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহী হননি। তবে সময়মতো দ্বিগুণের বেশি চাল সংগ্রহ হয়েছে। এজন্য অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান ও সংশ্লিষ্টদের একসঙ্গে কাজ করাকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।
রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের শেষ দিন গতকাল পর্যন্ত রংপুর সদর উপজেলায় কোনো ধান সংগ্রহ হয়নি। তবে চাল সংগ্রহ হয়েছে ২ হাজার ৯৫১ দশমিক ৪৬০ টন। বদরগঞ্জেও ধান সংগ্রহ হয়নি। চাল সংগ্রহ হয়েছে ৭৬৪ দশমিক ৩৬০ টন। মিঠাপুকুরেও ধান সংগ্রহ হয়নি। চাল সংগ্রহ হয়েছে ২ হাজার ৮৪৪ দশমিক ৩০ টন। পীরগঞ্জে ধান সংগ্রহ হয়েছে ৭ দশমিক ৪০০ ও চাল ৬ হাজার ৮২৬ দশমিক ৪৪০ টন। তারাগঞ্জে ধান সংগ্রহ হয়নি। শুধু চাল সংগ্রহ হয়েছে ৮ হাজার ৪৯৯ দশমিক ৪১০ টন। গঙ্গাচড়ায়ও ধান সংগ্রহ হয়নি। তবে চাল সংগ্রহ হয়েছে ৬৭৩ দশমিক ৯১০ টন। কাউনিয়ায় ধান সংগ্রহ না হলেও চাল পাওয়া গেছে ৮৭৫ দশমিক ৬৫০ টন। পীরগাছায় ধান সংগ্রহ হয়েছে ১৭৪ ও চাল ১ হাজার ৭০ দশমিক ৬৬০ টন।
ধানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া প্রসঙ্গে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অন্তরা মল্লিক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ধান নেয়া হয় কৃষকের কাছ থেকে। কিন্তু কৃষকরা যেখানে লাভ পান সেখানে ধান বিক্রি করেন। জমি থেকে প্রাপ্ত ধান বাড়ি থেকে বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন তারা। তাই ধান সংগ্রহ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হয়নি।’
লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণের বেশি চাল সংগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশব্যাপী অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু হয়েছে, তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে চাল সংগ্রহে। তাছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে খাদ্য কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসকের আন্তরিকতায় সংগ্রহ ভালো হয়েছে।’
রংপুর মহানগর মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুল আলম বাবু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমন সংগ্রহ অভিযানে আমি দুই হাজার টন চাল দিয়েছি। আমার নিজের বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৪০০ টন। ১৫ দিন ধরে ধানের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে প্রতি মণ ধান কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ২৫০ টাকা করে। এতে প্রতি কেজি চালের দাম দাঁড়ায় ৪৭ টাকা। শেষের দিকে প্রায় ২০০ টন চালে লোকসান হলেও প্রথম দিকে ৯৬০ টাকা মণ দরে ধান কিনে চাল করায় লাভ হয়েছে। প্রতি কেজি চালে খরচ হয়েছে ৪১ টাকা। সরকার প্রতি কেজি চালের দাম দিয়েছে ৪৪ টাকা। অল্প লাভ হলেও সরকারকে চাল দিলে টাকা একসঙ্গে পাওয়া যায়। বাইরে অনেক দিন টাকা পড়ে থাকার চেয়ে এটি অনেক ভালো।










