আসনের জন্য আমরা (এনসিপি) কারো সঙ্গে সমঝোতা করবো না বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এনসিপি তার অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করেছে যে, আমরা এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের নিজেদের রাজনীতি নিয়ে জনগণের কাছে যেতে চাই। তবে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব দাবি রয়েছে, সেই দাবি এবং আমাদের নীতি আদর্শের সঙ্গে যদি কোনো দল বা কোনো শক্তি ঐকমত্য পোষণ করে, তাহলে তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা থাকতে পারে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন মো. নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, আমরা যদি একটি আসনও না পাই, জাতীয় নাগরিক পার্টি তার যেই আদর্শ, তার যে নীতি, তার যেই লক্ষ্যে; সেই লক্ষ্যে অটুট থাকবে, আপনাদের কাছে এবং দেশবাসীর কাছে আমাদের এই অঙ্গীকার আমরা আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি। আমাদের এনসিপির যেকোনো প্রক্রিয়া আমরা খুবই স্বচ্ছভাবে নেয়ার চেষ্টা করি, জনগণের কাছে সবসময় আমরা আমাদের বক্তব্য হাজির রাখি। আমাদের পুরা নির্বাচনী প্রক্রিয়া খুবই স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। ফলে আমরা যদি কারো সঙ্গে কোনো ধরনের জোট বা কোনো ধরনের আলোচনা, সেটাও কিন্তু আপনাদের সঙ্গে আমরা খুবই খোলামেলাভাবে সেটার জন্য কথা বলতে প্রস্তুত।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে সারাদেশ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এসেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবো। এর আগের সপ্তাহগুলোতে আমরা দেখেছি যে, আমাদের জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় অফিস এবং অনলাইনে প্রচুর দক্ষ, যোগ্য ব্যক্তি তারা মনোনয়ন নিয়েছেন। আমরা একটি আহ্বান জানিয়েছিলাম সবার জন্য, শুধু জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের জন্য নয়। যেহেতু জাতীয় নাগরিক পার্টি এখন একটি উদীয়মান দল এবং সাধারণ মানুষের দল, সাধারণ নাগরিকের দল, ফলে আমাদের আহ্বান ছিল সবার প্রতি যারা নতুন করে রাজনীতি করতে চায়, দেশ গড়তে চায়, একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং যারা কখনো হয়ত ভাবেনি যে সংসদে যাবে, নির্বাচনে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পরে যেহেতু সবাই নতুন করে স্বপ্ন দেখছে আজকে হয়ত আমরা এখানে অনেকেই বসে থাকার কথা ছিল। আমরা খুবই উদ্বেগ জানাচ্ছি যে, নির্বাচনের জন্য যেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকার কথা, সেই ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা অনেক আগে থেকে এটা বলে আসছিলাম যে, বাংলাদেশের যে নির্বাচনী সংস্কৃতি, এখানে জবর দখল, প্রশাসনের দখল এবং টাকার ব্যবহার, কালো টাকার ব্যবহার, মাসেল পাওয়ারের ব্যবহার ইত্যাদি আমরা নির্বাচনে সবসময় দেখে এসেছি, শুনে এসেছি। এর আগের সময়গুলোতে এবং এর আগের ফ্যাসিবাদী সময়ে তো মানুষ ভোট দিতেও পারিনি। ফলে এবারের নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক তরুণ এবং স্বপ্নবাজ দেশপ্রেমী মানুষেরা সংসদে আসবে এটা আমাদের প্রত্যাশা।