ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রায় ৬৭ শতাংশই ব্যবসায়ী। কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন ১০৬ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ৯০ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১১ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন কোটিপতি।

গতকাল রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। 

হলফনামায় প্রদর্শিত প্রার্থীদের আয় ও সম্পদ সম্পূর্ণ কিনা এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা কিংবা কর ফাঁকির মতো ঘটনা ঘটেছে কিনা তা স্বপ্রণোদিতভাবে খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশন, রাজস্ব বোর্ড এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। একই সঙ্গে সংস্থাটি একদলীয় আধিপত্য ও ব্যবসায়ী প্রভাবজনিত ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ প্রাধান্য পাচ্ছে মন্তব্য করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে স্বপ্রণোদিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানায়। সংস্থাটি বলছে, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় পর্যায়েও রাজনৈতিকভাবে একদলীয় আধিপত্যের বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি ব্যবসায়ী স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। 

প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে টিআইবি বলছে, গত পাঁচ বছরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচিত হননি এমন প্রার্থীদের তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, যেসব জনপ্রতিনিধি দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় আছেন, তাদের আয় ও সম্পদ বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১০ বছরের আয় ও সম্পদ বৃদ্ধির তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, অনির্বাচিতদের তুলনায় আয় ১০ গুণ ও অস্থাবর সম্পদ প্রায় ৩৭ গুণ বেশি বেড়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। অর্থাৎ ক্ষমতায় থাকার সঙ্গে দ্রুত আয় ও সম্পদ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট। 

১০ বছরের হিসাব তুলনা করলে দেখা যায়, পদে থাকা প্রার্থীদের আয় ও অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে যথাক্রমে ৬৮১ দশমিক ৩৭ শতাংশ ও ১০১০ দশমিক ১২ শতাংশ। পদে না থাকাদের এক্ষেত্রে আয় ও সম্পদ বেড়েছে যথাক্রমে ৭১ দশমিক ৭১ শতাংশ ও ৩১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এখন জনস্বার্থের উপস্থিতি বিরল। আছে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থের বিকাশের সুযোগ। যারা ব্যবসা করেন, অন্য যেকোনো পেশাজীবীর মতো তারা রাজনীতিতে আসবেন, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ব্যবসায়ীদের আগ্রাসী অংশগ্রহণ সঠিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় হচ্ছে কিনা এবং জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে তারা রাজনীতিতে আসছেন কিনা? আবার যারা এ গোষ্ঠীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন তাদেরও একাংশ সুবিধাভোগী, অংশীদার বা সুরক্ষাকারী। ফলে রাজনীতিতে মুনাফামুখিতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।’