চলমান লকডাউনের মাঝেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ও রমজানের কারণে ভালো দামে দুধ বিক্রি করতে পারায় এবং চাহিদা বেশি থাকায় খুশি দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দর এলাকার দুগ্ধ খামারিরা। এদিকে ন্যায্যমূল্যে ও চাহিদা অনুযায়ী দুধ কিনতে পারায় খুশি ক্রেতারাও।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে গেলে গত বছর ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়, যা কয়েক দফায় বাড়তে বাড়তে বেশ কিছুদিন ধরে স্থায়ী হয়। এতে দুধ বিক্রি করতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়েন খামারিরা। যদিও পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দুধ বিক্রির ব্যবস্থা চালু করা হয়। তবে এবারে চলমান লকডাউনের মাঝে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দুগ্ধ খামারিদের। লকডাউনের কারণে হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক ভ্রাম্যমাণ দুধ বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। এ ভ্রাম্যমাণ দুধ বিক্রয় কেন্দ্র চালুর ফলে বেড়েছে দুধের বেচা-কেনা। হাকিমপুর উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক দুগ্ধ খামার রয়েছে। যেখান থেকে প্রতিদিন দুধ উৎপাদন হয় দুই হাজার লিটারের বেশি, যা হিলি বিরামপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ গাড়ির কাছে দুধ কিনতে আসা সাইফুল ইসলাম ও রোজিনা পারভীন বলেন, বাড়ির সামনেই ভ্রাম্যমাণ গাড়ি আসছে যেখান থেকে দুধ ক্রয় করছি। আগে যেখানে ৪০ টাকা লিটার দরে দুধ কিনতাম এখন সেখানে ৫০ টাকা লিটারে দুধ কিনতে হচ্ছে। তবে দাম বেশি হলেও ভালো মানের দুধ পাওয়ায় খুশি আমরা।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রতন কুমার বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশে লকডাউন চলছে। এমন অবস্থায় প্রান্তিক খামারিদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ও করোনাকালীন জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে এ ভ্রাম্যমাণ দুধ বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ লিটার দুধ বিক্রি করা হচ্ছে। এতে খামারিদের পাশাপাশি ক্রেতারাও লাভবান হচ্ছেন।