গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ।
সমন্বিত মাছ ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে শতশত পরিবার।
ফলন ভালো হওয়ায় এলাকার অনেক কৃষক ঘেরের বেড়িবাঁধে সবজি চাষে ঝুঁকছেন।
চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় এ অঞ্চলের অধিকাংশ ঘেরের মালিকই ঘেরের বাঁধে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি সবজির চাষ করে সচ্ছল হচ্ছেন।
ঘেরের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আর ঘেরের বাঁধে করলা, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, চিচিঙ্গা, বরবটি, পুঁইশাক ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে শতশত পরিবার।
মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ করে সাড়া জাগিয়েছেন সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের সহস্রাধিক কৃষক।
এতে অর্থনৈতিকভাবে এ অঞ্চলের কৃষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রঘুনাথপুর-টুঙ্গিপাড়া পাকা সড়কসংলগ্ন রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দীঘারকুল, সিলনা, সিঙ্গারকুল, গুয়াধানা, আন্দারকোটা, পারকুশলীর বিলে অসংখ্য মৎস্য ঘেরের চারপাশের বাঁধে মাচা পদ্ধতিতে লাউ, কুমড়া ও করলাসহ নানা রকম সবজি চাষ করা হয়েছে। কিছু ঘেরের বেড়িবাঁধে পরীক্ষামূলকভাবে তরমুজ চাষ করেও আসছে সফলতা।
রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক কনজ বিশ্বাস জানান, তিনি তার তিন বিঘা জমির ঘেরে মাচা পদ্ধতিতে করলা ও মিষ্টিকুমড়ার চাষ করেছেন।
মাঘ মাস পর্যন্ত এভাবেই মাছের পাশাপাশি সবজি উৎপাদন চলবে।
তারপর পানি শুকিয়ে গেলে ধান রোপণ করা হবে।
তিনি আরো জানান, তিন বিঘা জমির ঘেরে নেট, বাঁশ ও নাইলনের সুতা দিয়ে মাচা তৈরিতে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
এখানে উৎপাদিত সবজি বিক্রিতে আয় হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা।
কয়েক বছর ধরে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করেন রহমত আলী।
তিনি বলেন, মাচা তৈরিতে খরচ প্রতি বছর হয় না।
দু-তিন বছর পর পর মাচা তৈরি করতে হয়, এতে লাভের পরিমাণ অনেক বাড়ে।
শুধু রহমত আলীর ঘেরে নয়, পার্শ্ববর্তী কৃষক সরোজিৎ, নৃপেন, লাবলু, অজিত ও তবিবুরের ঘেরসহ যত দূর দু’চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ।
প্রত্যেক চাষীর ঘেরের মাচায় ঝুলছে করলা, লাউ ও মিষ্টিকুমড়া।
কৃষক নৃপেন জানান, আড়াই বিঘার জমির ঘেরে মাচা পদ্ধতিতে করলার চাষ করেছেন।
এখান থেকে উৎপাদিত করলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এসে নগদ টাকায় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
ফলে চাষের খরচ মিটিয়ে লাভের টাকা হাতে পেয়ে খুব খুশি।
কৃষক আমিনুর বলেন, সমন্বিত পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষের ফলে আমরা যেমন লাভবান হচ্ছি, তেমন ঘেরের বাঁধও মজবুত হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ বলেন, এ বছর সদর উপজেলায় মোট ১২০ হেক্টর সমপরিমাণ ঘেরের আইলে সবজি চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৪০০ টন। আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ সবজি চাষের উপযোগী হওয়ায় ঘেরের বাঁধে সবজি চাষের পরিধি বেড়েই চলেছে।









