আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ও তাদের
সন্তানদের শিক্ষার জন্য ১০ শতাংশ বাজেট রাখার দাবি করেছেন শ্রমিকরা। বুধবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাব
প্রাঙ্গণ থেকে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার আগে সমাবেশে শ্রমিক নেতারা এসব দাবি করেন।
পদযাত্রার আয়োজন করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল-গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।
পদযাত্রাটি জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে সংসদ ভবনের উদ্দেশ্যে
রওনা হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে আবারো প্রেসক্লাবের সামনে এসে জড়ো হয়।
পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশ থেকে টেক্সটাইল-গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের
সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমান ইসমাইল বলেন, জাতীয় বাজেটে শ্রমিকদের জন্য আলাদা
কোনো বাজেট বরাদ্দের খাত নেই। জিডিপিতে ৬ কোটি শ্রমিকের অবদান সবচেয়ে বেশি অথচ এ শ্রমিকদের
জন্য রেশনিং ব্যবস্থা নেই। নেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার চিকিৎসা এবং সন্তানদের লেখাপড়ার
ভবিষ্যৎ।
শ্রমিক নেতারা বলেন, ৫২ বছরে জাতীয় বাজেটের আকার ৭৮৬ কোটি টাকা থেকে
৯৬৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ লাখ কোটি টাকা হয়েছে। তবে সরকারের উন্নয়ন ও জিডিপিতে শ্রমজীবী
মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নতি হয়নি। দেশে বর্তমানে ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ১৪ কোটি মানুষের
নিজস্ব কোনো আবাসন নেই। বাজেটে শ্রমিকদের নামে আলাদা কোনো খাত না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বাংলাদেশ এরই মধ্যে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত হয়েছে, সে কারণে শ্রমিকদের
জীবনযাত্রা নিচে অবস্থান করতে পারে না।
সমাবেশে নেতারা বলেন, উন্নয়নের নামে বাজেট প্রচার করা হলেও সরকার
কোনো সুষম বাজেট করতে পারেনি। এ কারণে শ্রমিকরা বাজেটের প্রাপ্য থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত
হচ্ছে। রেশনিং ব্যবস্থা চালু থাকলে সিন্ডিকেট কালোবাজারিরা মূল্য বাড়িয়ে দিয়ে বছরে
১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা শ্রমিকদের পকেট থেকে লুটে নিতে পারত না। নেতারা এবারের বাজেটে
শ্রমিকের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, আবাসন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সন্তানের শিক্ষার জন্য
১০ শতাংশ বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল-গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট
মাহমুদুর রহমান ইসমাইলের সভাপতিত্বে পদযাত্রায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল-গার্মেন্টস
শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এফ এম আবু সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন সরকার, আশুলিয়া
থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আব্দুল করিম শেখ প্রমুখ।










