রংপুরে মৃত্যুর ৪৪ দিন পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত সাজ্জাদ হোসেনের (২৭) ও লক্ষ্মীপুরে দাফনের এক মাসের মাথায় ওসমান গণির মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তে জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল পৃথক সময়ে রংপুর নগরীর শালবন মিস্ত্রীপাড়া কবরস্থান ও রায়পুর উপজেলার বাসাবাড়ী এলাকায় পারিবারিক কবরস্থান থেকে তাদের মরদেহ তোলা হয়। পরে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ করে আবারো দাফন করা হয়েছে। আমাদের রংপুর ও লক্ষ্মীপুরের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত

রংপুর: মৃত্যুর ৪৪ দিন পর জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে সাজ্জাদ হোসেনের মরদেহ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খালেদ হোসেনসহ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল উপস্থিত ছিল।

মরদেহ উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম আরিফ হোসেন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে সাজ্জাদ হোসেনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ করে আবারো দাফন করা হয়েছে।’

গত ১৯ জুলাই নিহত হন সাজ্জাদ হোসেন। এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট সাজ্জাদ হোসেনের স্ত্রী জিতু বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানা, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় ৫১ জন নামীয় ও অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৩০০ জনকে।

লক্ষ্মীপুর: দাফনের এক মাসের মাথায় ওসমান গণির মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত (সদর) বিচারকের নির্দেশে কবর থেকে শহীদ ওসমান গণির মরদেহ তোলা হয়। এ সময় রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ আরমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ আরমান বলেন, ‘‌বিচারিক আদালতের নির্দেশে শহীদ ওসমান গণির মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তাকে কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হবে।’