নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসায় আইসিইউ ভেন্টিলেটরের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে দেশে চাহিদার তুলনায় আইসিইউ ভেন্টিলেটরের সংখ্যা অনেক কম। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় মেডিসিন স্টোর ডিপোর (সিএমএসডি) মাধ্যমে ৪৫০ ভেন্টিলেটর আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সিএমএসডি এরই মধ্যে বিভিন্ন সরবরাহকারীর কাছ থেকে দর প্রস্তাব সংগ্রহ করেছে। এ-সংক্রান্ত কার্যাদেশ জারির তাগিদে আগামী বুধবার ক্রয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও সিএমএসডি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি আইসিইউ ভেন্টিলেটরের গড় মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৪৫০টি ভেন্টিলেটরের মোট মূল্য হবে ৯০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কার্যাদেশ জারির তিন মাসের মধ্যে এসব ভেন্টিলেটর চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমএসডির উপপরিচালক জাকির হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এখনো কোনো উদ্যোগই চূড়ান্ত হয়নি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এসব উদ্যোগ চূড়ান্ত করে কার্যাদেশ দেয়া হবে।
বর্তমানে দেশের ৪২টি সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভেন্টিলেটর রয়েছে ৫৫৯টি। এর মধ্যে ১৯০টি স্থাপন করা হয়েছে চলতি বছরের মার্চের পর। বর্তমানে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আইসিইউ ভেন্টিলেটর রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। ঢামেক হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের সংখ্যা ৫৫টি।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সিএমএসডি এরই মধ্যে ৪৫০ ভেন্টিলেটর কেনার জন্য দরপ্রস্তাব সংগ্রহ করেছে। এসব ভেন্টিলেটর পেতে কমপক্ষে আরো তিন মাস সময় লাগবে। কভিড-১৯ জরুরি প্রতিক্রিয়া এবং মহামারী প্রস্তুতি প্রকল্পের আওতায় ২০০ হাই ফ্লো নাসাল ক্যানোলা সিস্টেম (এইচএফএনসি) ও অক্সিজেন সিলিন্ডার আমদানির জন্য আরেকটি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যা জুলাইয়ের মধ্যে আসতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং মিডিয়া সমন্বিত সেলের ফোকাল পয়েন্টের হাবিবুর রহমান খানের ভাষ্যমতে, কভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সরকার জরুরিভিত্তিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বেশকিছু চিকিৎসা যন্ত্রাংশ সংগ্রহে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে সারা পৃথিবীতেই চিকিৎসা যন্ত্রাংশের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। এ কারণে আমদানির উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে।
সম্প্রতি ৩৯ সরকারি হাসপাতালে কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় রোগীদের লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়। লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপনের জন্য ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে এরই মধ্যে একটি চিঠিও দিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। চিঠিতে বলা হয়েছে, গণপূর্ত বিভাগ নির্মিত সরকারি হাসপাতালগুলোয় মেডিকেল গ্যাস পাইপলাইন সিস্টেম থাকলেও অধিকাংশ হাসপাতালে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক নেই। ফলে কভিড-১৯ রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা হলেও এর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়ে অল্প কিছু ক্ষেত্রে কাজ চালিয়ে নেয়া হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা অপর্যাপ্ত। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। আবার কমপ্রেসড অক্সিজেনের চেয়ে লিকুইড অক্সিজেন ব্যবহার করা তুলনামূলক সহজ। শুধু কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেই রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের চিফ টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. আমিনুর রহমান বণিক বার্তাকে জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাশন্যাল ইলেকট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার থেকে ২২টি হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহের জন্য লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে চলতি মাসের মধ্যে বাকি ২৬টি হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহের জন্য লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপনের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।









