ঢাকা-কলকাতা রেলপথে মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন করে পদ্মা সেতু দিয়ে চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। নতুন এ রুটে ট্রেন চললে ঢাকা-কলকাতা যাত্রায় ২-৩ ঘণ্টা সময় কমতে পারে। তবে ট্রেনটি পুনরায় চালুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এজন্য ভারতীয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রেল ভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় রেলওয়ে ইন্টারচেঞ্জ মিটিংয়ে (আইজিআরএম) ভারতীয় পক্ষ মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু দিয়ে পুনরায় চালানোর প্রস্তাব দেয়। বৈঠক শেষে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। গতকাল রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা ভারতের কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাইনি।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বণিক বার্তাকে জানান, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর কোনো সময়সীমা এখনো ঠিক হয়নি।

বর্তমানে বন্ধ থাকা মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট টাঙ্গাইল, যমুনা সেতু, ঈশ্বরদী ও দর্শনা হয়ে কলকাতা। এ পথে ঢাকা-কলকাতা দূরত্ব প্রায় ৩৯২ কিলোমিটার। অনুমোদিত সময়সূচিতে ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে ৭ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে অনেক সময় ৯-১০ ঘণ্টা লাগত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ব্যবহার করে বেনাপোল হয়ে কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন চালানো গেলে যাত্রার সময় ২-৩ ঘণ্টা কমতে পারে। তবে নতুন রুট চালুর আগে রেলপথের সক্ষমতা, ট্রেনের দিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রসওভার, কমলাপুর স্টেশনের সক্ষমতা ও অন্যান্য ট্রেনের ওপর বাড়তি চাপ বিবেচনা করতে হবে। ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনাও সমন্বয় করতে হবে।

২০০৮ সালে চালুর পর ঢাকা-কলকাতা যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মৈত্রী এক্সপ্রেস। ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত এতে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬০ যাত্রী ভ্রমণ করে। তাদের প্রায় ৯৫ শতাংশই ছিল বাংলাদেশের নাগরিক। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস পরিচালনা নিয়ে দুই দেশের আর্থিক হিসাবও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেন পরিচালনা বাবদ বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা পাবে ভারত। বিপরীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দরকষাকষি চলছে।

আইজিআরএম বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর কোনো এজেন্ডা ছিল না। ভারতীয় পক্ষ থেকেই পদ্মা সেতু দিয়ে রুট পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়া হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল আরো কার্যকর করা, ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টের সক্ষমতা বাড়ানো, পরিচালন ব্যয় ও টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।