ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৭ দিনের ছুটিতে প্রিয়জনের কাছে ফিরতে পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ে রেকর্ড গড়েছে দেশের প্রধান দুটি সেতু—পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু, যেখানে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নজির স্থাপন হয়েছে।
আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতরের ছুটির প্রথম তিনদিনে পদ্মা সেতু দিয়ে ১ লাখ ৯ হাজার ২৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। এবার প্রথম তিনদিনে মোট টোল আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।
আরো জানানো হয়, যমুনা সেতু দিয়ে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩৬৮টি। চলতি বছর একদিনে সর্বোচ্চ মোট টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০টাকা।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও এ বছর বড় কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরণের যানজট পরিলক্ষিত হয়নি। পরিসংখ্যানগুলো দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা এবং দক্ষতার প্রতিফলন।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ প্রদান, দক্ষ টোল কালেক্টর নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেলের জন্য লেন বাড়ানো, নন-স্টপ ইটিসি চালু, মাওয়া ও এলেঙ্গা বাস বে-উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মনিটরিং, উচ্চপর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, সেতুর বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার, ভারী রেকারসহ দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম এবং ইমার্জেন্সি টোল লেন চালুসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়।










