ময়মনসিংহ ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. জ্যোতি জয়ন্ত চক্রবর্তী (৪৪) মারা গেছেন। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে এই চিকিৎসকের মৃত্যু হয়।
তার সহকর্মী ও চিকিৎসকদের দাবি, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তিনি মারা গেছেন। তার শরীরে করোনার কোন উপসর্গ ছিল না। তারপরও করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে অনেক চিকিৎসকই সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব দেখিয়ে রোগী দেখা থেকে বিরত থাকেন। তবে এর ব্যতিক্রম ছিলেন জ্যোতি জয়ন্ত। তিনি গত ৮ এপ্রিল পিপিই পরা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে তার ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি কভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই করার শপথ নিয়েছি। আমি নিয়মিত নিরাপদে থেকে আমার রোগী দেখছি। সরকারি বা কোন সংস্থা থেকে না পেলেও নিজেই পিপিই কিনেছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আমি একজন চিকিৎসক, মানুষকে সেবা দেয়া আমার দায়িত্ব।’ তিনি এই দুর্যোগে সবাইকে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছিলেন পোস্টে।
এদিকে ডা. জ্যোতি জয়ন্ত চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর করোনায় মৃত্যু হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জানা যায়, এই চিকিৎসকের মৃত্যুর পর শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেলের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুসরাত সুলতানা লিমা। তিনি লিখেছেন, ‘আরেক পলাতক ডাক্তারের মৃত্যু। দিনটা শুরু হলো এক ডাক্তারের মৃত্যু দিয়ে আর শেষ হলো আরেকজনের মৃত্যুতে। আনন্দমোহন কলেজের চিকিৎসাকেন্দ্রে কর্মরত তরুণ চিকিৎসক ডা. জ্যোতি জয়ন্ত চক্রবর্তী কিছুক্ষণ আগে পরলোক গমন করেছেন। উনি কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিলেন।’
স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হলে করোনায় আক্রান্ত দ্বিতীয় বাংলাদেশী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর ছড়াতে থাকে। পরে তার রক্তের নমুনা করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
রাতভর ছড়ানো সেই খবর বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন আনন্দমোহন কলেজের চিকিৎসা কর্মকর্তারা। এ বিষয় আনন্দমোহন কলেজের উপাধ্যক্ষ অ্যধাপক নুরুল আফসারী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার চিকিৎসক জ্যোতি জয়ন্তর ফুড পয়জনিং হলে পরিবারের লোকজন তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ফুড পয়জনিংয়ের ফলে উচ্চ রক্তচাপের কারণে চিকিৎসাধীন বুধবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না।
একই বক্তব্য দিয়েছেন ডা. জ্যোতির পরিবারের সদস্যরা। ডা. জ্যোতির বাবা আনন্দমোহন কলেজের সাবেক শিক্ষক প্রফেসর জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী তার ভাই আনন্দমোহন কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিককে জানিয়েছেন, দু'দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে খাবার খেয়েছিল জ্যোতি। তারপর তার প্রচন্ড গ্যাস হয়। পরে মঙ্গলবার রাতে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করি। খাবারের বিষক্রিয়ার বুধবার রাতে হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যায় সে। সে করোনা রোগী ছিল না।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার বলেন, চিকিৎসক জ্যোতি জয়ন্তর মৃত্যু উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণেই। তার ডেথ সার্টিফিকেটেও তাই উল্লেখ করা হয়েছে। ডা. জ্যোতির শরীরে করোনার কোনো উপসর্গ ছিলো না। এর পরও রাতে তার নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। আজ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে।










