তবে এখন বড় প্রশ্ন হলো সেই শক্তিকে কীভাবে টেকসই অংশগ্রহণ, উৎপাদনশীল সুযোগ এবং অর্থবহ জাতি গঠনে রূপান্তর করা যায়। গতকাল অনলাইনে ‘অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশে তারুণ্যের বহুমুখী সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে পিপিআরসি। সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন পিপিআরসির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী সময়ে পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা, তা-ই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে এ শক্তিকে কাজে লাগাতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে কাজ করতে হবে—তৃণমূল সংস্কার থেকে শুরু করে পরিবর্তনবিরোধী কাঠামোগত শক্তিগুলো পর্যন্ত এবং এর জন্য ঢাকা ও এলিট গণ্ডির বাইরেও এক সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তরুণরা পরিবর্তনের এ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সম্পূর্ণ সজাগ। প্রকৃত প্রশ্ন হলো আমরা কী তাদের অবদান রাখার জন্য সঠিক পরিবেশ ও সঠিক সুযোগ দিতে পারছি কিনা।’ এ সময় তিনি ‘বড় সংস্কার’-এর পাশাপাশি ‘ছোট সংস্কার’-এর দিকে নজর না দিলে বড় সংস্কার কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা থাকে বলে উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশের প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কিছু প্রবণতা, সংস্কৃতি ও ক্ষমতার ধরন এখনো বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সংবিধান, রাষ্ট্রকাঠামো বা আইন বিভাগের বড় সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর পাশাপাশি অসংখ্য ছোট ও প্রক্রিয়াগত সংস্কারও প্রয়োজন।’
সভায় অল্টারনেটিভসের ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটির সংগঠক তাজনুভা জাবীন জুলাই অভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে তরুণদের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক আগ্রহ তৈরি হওয়ার কথা তুলে ধরেন।
কৃষিপণ্য সরবরাহভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ফসল ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হোসাইন বাংলাদেশের কৃষি খাতকে পিছিয়ে রাখা তথ্য ও প্রযুক্তির বিশাল ঘাটতির কথা তুলে ধরেন।
কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষিবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা উম্মে কুলসুম পপি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাতগুলোর একটি এখনো কৃষি। আমি চাই, তরুণরা কৃষিকে এমন কিছু হিসেবে দেখুক, যাকে ঘিরে ভবিষ্যৎ গড়া যায় এবং যা পরিবারের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।’
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করা শিক্ষার্থী ডাও সিং নু মারমা বলেন, ‘তরুণরা নিজেদের মধ্যে যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে, তা-ই প্রায় ভাষাগত বাধা ভাঙার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের কমিউনিটিগুলোতে শিক্ষা পৌঁছে দেয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে।’
প্যানেল আলোচনায় আরো বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এমএম খালিকুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আইন সংস্কার একেবারে তৃণমূল থেকে শুরু করে গড়ে তুলতে হয়, আর এ কারণেই আমাদের প্রয়োজন এমন এক নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ, যারা এ লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা মুনীম মোবাশ্বের বলেন,”‘জুলাইয়ের জন্য যেসব তরুণ রক্ত দিয়েছে, তাদের অনেকের মধ্যেই এ জাতি পুনর্গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি ও সক্ষমতা ছিল, কিন্তু তাদের কখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে জায়গা দেয়া হয়নি। এখন আমাদের দায়িত্ব, পরবর্তী প্রজন্মের তরুণরা যেন শুধু তাদের ত্যাগের জন্য স্মরণীয় না থেকে, বরং তারা যে ভবিষ্যতের জন্য লড়েছে, সেই ভবিষ্যতেও অন্তর্ভুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করা।’










