নারীদের গর্ভধারণের আগে মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্টস (এমএমএস) গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, গর্ভধারণের আগেই পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হলে মা ও নবজাতক দুজনের জন্যই তা ইতিবাচক ফল সৃষ্টি করে।
আইসিডিডিআর,বি-র ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) মহাখালীর সাসাকাওয়া মিলনায়তনে ‘দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে পুষ্টি গবেষণার অর্ধ-শতাব্দীর যাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। কয়েক দশক ধরে পুষ্টি গবেষণায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনে মূল লক্ষ্য।
স্বাগত বক্তব্যে আইসিডিডিআর,বি'র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ দীর্ঘদিনের দাতা, অ্যালামনাই, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সব অংশীদারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশই মূল কাজ নয়; বরং সেই গবেষণার ফল বাস্তবে প্রয়োগ করে মানুষের জীবনে প্রভাব সৃষ্টি করা আরো গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, এ সাফল্যের পেছনে আছে বিজ্ঞানী, ল্যাবকর্মী, হাসপাতাল ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সব সহযোগীর অবদান।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের বক্তব্য পাঠ করে শোনান দূতাবাসের স্বাস্থ্য–বিশেষজ্ঞ সুষ্মিতা খান। বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র আইসিডিডিআর,বি'র পাশে রয়েছে। এ অংশীদারত্ব গবেষণায় অগ্রগতি, বৈশ্বিক নীতি প্রণয়ন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে। বার্তায় রোগতত্ত্ব নজরদারি, প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ ও টিকা গবেষণায় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং। তিনি আইসিডিডিআর,বি'র বৈশ্বিক মানের গবেষণা ও সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীকে সেবা দেয়ার মতো কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ছাড়া কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়। কানাডার সঙ্গে দীর্ঘ সহযোগিতা তাদের কাছে গৌরবের বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ এর অধ্যাপক কিথ পি ওয়েস্ট জুনিয়র। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় বাংলাদেশে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশ, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ায় পরিচালিত পুষ্টি গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
তার গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভধারণের আগে নারীরা পুষ্টি সহায়তা পেলে গর্ভাবস্থার ফল ভালো হয়। বাংলাদেশে ‘জীবিত’ গবেষণার সাম্প্রতিক ফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গর্ভধারণের আগে এমএমএস গ্রহণ করা নারীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক গর্ভপাতের হার প্রায় ৩০ শতাংশ কম দেখা গেছে। তিনি মনে করেন, যেখানে অনুপুষ্টি সাধারণ সমস্যা, সেখানে গর্ভধারণের আগের পুষ্টি সহায়তা জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর ওয়েস্ট তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে বাংলাদেশের প্রথম সংস্করণের মানচিত্র, ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন তৈরির প্রাথমিক পরিমাপযন্ত্র এবং কয়েকটি ঐতিহাসিক বই স্মারক হিসেবে ড. তাহমিদ আহমেদকে উপহার দেন।










