এর আওতায় প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের পণ্য ব্যবহারের পর সৃষ্ট বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও পরিত্যাজনের দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রতি বছর অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নবায়ন না করার বিধান রাখা হয়েছে।

গতকাল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় নির্দেশিকাটি জারি করে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত বা ব্যবহৃত পুনঃচক্রায়নযোগ্য ও অ-পুনঃচক্রায়নযোগ্য সব ধরনের প্লাস্টিক পণ্য এবং তালিকাভুক্ত পণ্যের প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের জন্য ইপিআর নির্দেশিকা প্রযোজ্য হবে। তবে রফতানি আদেশের ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদনকারী রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতার বাইরে থাকবে।

নির্দেশিকায় প্লাস্টিক পণ্যকে পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কঠিন প্লাস্টিক, নমনীয় প্লাস্টিক, স্টাইরোফোম বা ইপিএস, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ নয় এমন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপার ও সিগারেট ফিল্টারের মতো অন্যান্য প্লাস্টিক পণ্য।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে ধাপে ধাপে তালিকাভুক্ত করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রথম দুই বছর বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরের দুই বছরে মাঝারি এবং পঞ্চম বছরে গিয়ে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হবে।

তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ থাকবে তিন বছর। কোম্পানিগুলোকে একক বা যৌথভাবে বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও পরিত্যাজনের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির প্রথম দুই বছরে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বর্জ্য পুনঃচক্রায়ন করতে হবে। পরের বছরগুলোয় ৩০ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ ও ১৫ শতাংশ বর্জ্য পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত সংগৃহীত বর্জ্য সরকার অনুমোদিত পদ্ধতিতে ‘প্লাস্টিক ক্রেডিট’ হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগও রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আশা করছে, ইপিআর নির্দেশিকা বাস্তবায়নের ফলে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকরা পণ্যের জীবনচক্র শেষ হওয়ার পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে সরাসরি যুক্ত হবেন। এতে বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়ন অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহক খাতের আনুষ্ঠানিকীকরণ এবং চক্রাকার অর্থনীতির বিকাশে গতি আসবে।