প্রায় এক হাজার বছর আগে ১০৫৩ সালের দিকে ইসলাম প্রচারে নেত্রকোনায় এসেছিলেন সুফি সাধক হজরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রহ.)। তার দরগাকে ঘিরে যুগ যুগ ধরে বসছে বাউল, মুর্শিদি, ভাটিয়ালি ও লোকগানের আসর। সহাবস্থানের এ ধারাতেই নেত্রকোনা পরিচিতি পায় ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’র পালা, বাউল, ভাটিয়ালি, সারিগান, যাত্রা ও সমৃদ্ধ লোকসাহিত্যের জনপদ হিসেবে।
চন্দ্রকুমার দে, জালাল উদ্দিন খাঁ, উকিল মুন্সী, রশিদ উদ্দিন, হুমায়ূন আহমেদ, নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজ, যতীন সরকার, শৈলজারঞ্জন মজুমদারের মতো বিশিষ্ট সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জন্ম এ জেলায়। এক যুগ আগেও নেত্রকোনার পরিচিতির বড় অংশজুড়ে ছিল তাদের নাম। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে সামনে এসেছে ধর্মীয় বক্তা (শিশুবক্তা) রফিকুল ইসলাম মাদানীর নাম।
স্থানীয় সাহিত্যসংশ্লিষ্টদের মতে, নেত্রকোনায় এখনো সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা হলেও এর পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ফলে বদলে যাচ্ছে জেলার লোকপ্রিয় মুখগুলোও।
নেত্রকোনায় ধর্মীয় চর্চা ও লোকসংস্কৃতির বিকাশ আলাদা দুটি ধারায় নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় এগিয়েছে। এ ধারারই বিস্তৃত রূপ দেখা যায় জেলার লোকসাহিত্যে। বাউল, ভাটিয়ালি, জারি, সারি, কবিগান, পালাগান, ঢপ, যাত্রা, কিচ্ছা, ধামাইল, ঘাটুগান, মেয়েলি গীত, গাইনের গীত, লোকছড়া ও প্রবাদ-প্রবচনে গড়ে উঠেছে নেত্রকোনার নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়। জেলা প্রশাসনের ভাষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক তথ্যেও পূর্ব ময়মনসিংহকে ‘লোক ও সাহিত্য সংস্কৃতির তীর্থভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; আর সে অঞ্চলের লোকসাহিত্য-সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নেত্রকোনাকে।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সহাবস্থান সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উঠে আসে শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমীর (রহ.) মদনপুর দরগাকে ঘিরে। প্রতি বছর ফাল্গুনের পূর্ণিমায় তার বার্ষিক ওরসে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সমাগম ঘটে। বসে ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, বাউল ও অন্যান্য লোকগানের আসর। এ সুফি সাধককে ঘিরে রচিত হয়েছে একাধিক লোকগানও।
নেত্রকোনার এ পরিচয়ের সবচেয়ে বড় স্মারক ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’। মহুয়া, মলুয়া, মদিনা, কমলা, চন্দ্রাবতী, কঙ্ক লীলাসহ লোকমুখে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য পালা এ অঞ্চলের হাওর, নদী, গ্রাম ও মানুষের জীবন থেকে উঠে এসেছে। গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিভিন্ন লোকগাথা সংগ্রহ করেন কেন্দুয়ার লোকসাহিত্য সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে। তার সংগৃহীত ১০টি পালা দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ নামে প্রকাশিত হয়। চন্দ্রকুমার দের হাত ধরেই নতুন করে সামনে আসে কবি চন্দ্রাবতীসহ পূর্ববঙ্গের বহু পালাকার ও লোককবির সাহিত্যিক উত্তরাধিকার। মোহাম্মদ সিরাজুদ্দিন কাসিমপুরী, রওশন ইজদানীসহ অনেকে লোকসংগীত, ছড়া, প্রবাদ-প্রবচন ও লোকঐতিহ্য সংগ্রহ ও গবেষণার কাজ এগিয়ে নেন।
বাউলাই, ধলাই, ধনু, বেতাই কিংবা নিতাই নদীর মতো এ অঞ্চলের জনজীবনকে শত শত বছর জড়িয়ে রেখেছে বাউল গান। প্রচলিত বৈঠকি বাউলের পাশাপাশি রশিদ উদ্দিনের হাত ধরে বিকশিত হয় ‘মালজোড়া বাউল’ গানের বিশেষ ধারা। দুই বাউলের প্রশ্ন-উত্তর, তত্ত্ব ও দর্শনের বাগ্যুদ্ধে জমে উঠত এর আসর। রশিদ উদ্দিন, জালাল উদ্দিন খাঁ, চান খাঁ পাঠান, মিরাজ আলী, উকিল মুন্সীসহ অসংখ্য সাধক এ ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন।
ভাটির জল ও মাঝির জীবন থেকে এসেছে ভাটিয়ালি। নৌকার ছন্দ থেকে সারিগান। নারীর মনোজগৎ জায়গা পেয়েছে ধামাইল ও গীতে। আবার ঘাটুগান, গাইনের গীত, কবিগান, ঢপ ও যাত্রারও নিজস্ব পরিসর ছিল। একসময় নেত্রকোনা শহরের সাতপাই রেলক্রসিং এলাকায় যাত্রাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল যাত্রাপল্লী ও সাজঘর। খুরশীমূল ও পঞ্চানন দাসের ঢপের দল কিংবা আনোয়ার উদ্দিন, হরিপদ, রমেশ আদিত্য ও গৌরাঙ্গ আদিত্যের যাত্রাপালা জেলার সীমানা ছাড়িয়েছিল।

লোকসাহিত্যের ওপর দাঁড়িয়েই নেত্রকোনা পরে আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও শক্ত অবস্থান তৈরি করে। কথাসাহিত্যে খালেকদাদ চৌধুরী থেকে শুরু করে হুমায়ূন আহমেদ ও মুহম্মদ জাফর ইকবাল; কবিতায় নির্মলেন্দু গুণ ও হেলাল হাফিজ; প্রবন্ধ ও গবেষণায় যতীন সরকার; আর রবীন্দ্রসংগীতে শিল্পী ও স্বরলিপিকার শৈলজারঞ্জন মজুমদার—একই জেলার সঙ্গে যুক্ত এতগুলো প্রভাবশালী নাম নেত্রকোনাকে আলাদা সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক মর্যাদা দিয়েছে।
নেত্রকোনার লেখক, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একসময় সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় নেত্রকোনা অনেক অগ্রসর ছিল। তৎকালীন মহকুমা এবং পরে জেলা শহর হিসেবে এটি সাহিত্যের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছিল। খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের ঘিরেই গড়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত সাহিত্যচর্চা। এখন তা অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিসরে এক ধরনের ম্রিয়মাণ অবস্থা তৈরি হয়েছে। এর অন্যতম কারণ আগের মতো সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠন গড়ে ওঠেনি। নতুন প্রজন্মও অনেক বেশি মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে।’
হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তা বাংলা কথাসাহিত্যের পাঠক তৈরির ইতিহাসের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে। বাংলা কথাসাহিত্যে যিনি নতুন ধারা তৈরি করেছেন। তার সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, কিংবা ‘শুভ্র’ কেবল ঢাকাই নাগরিক জীবনের প্রতিনিধি নয়, এদের চিন্তার গভীরে প্রায়ই জড়িয়ে থাকত লোকজ জীবনের রহস্যময়তা। তার রচিত উপন্যাস বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের কয়েক দশক ধরে মুগ্ধ করে চলেছে। হেলাল হাফিজের কবিতা কয়েক প্রজন্মের তরুণের প্রেম ও দ্রোহের ভাষা হয়ে উঠেছে। আর যতীন সরকারের গবেষণা, প্রবন্ধ ও সমাজ বিশ্লেষণ নেত্রকোনার বৌদ্ধিক পরিসরকে যুক্ত করেছে জাতীয় পরিসরের সঙ্গে।
এ সাহিত্যিক ধারার প্রাতিষ্ঠানিক রূপও আছে। ১৮৮৮ সালের ‘উদ্দেশ্য মহৎ’ থেকে ‘প্রান্তবাসী’, ‘ভাস্বর’, ‘উত্তর আকাশ’—দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে স্থানীয় সাহিত্য সাময়িকীর। সেই উত্তরাধিকার এখনো পুরোপুরি হারায়নি। নেত্রকোনার সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে বসন্তকালীন সাহিত্য উৎসব। ১৯৯৭ সাল থেকে নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছর পহেলা ফাল্গুনে এ উৎসব বসে। কবিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি সেখানে প্রদান করা হয় খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার। প্রায় তিন দশক ধরে নিয়মিত চলছে এ আয়োজন, যা এখন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
ঢাকা থেকে ২০২৪ সালের নেত্রকোনার সাহিত্য উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক ফারুক মঈনউদ্দীন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনায় সাহিত্যপ্রেমীদের ব্যাপক সমাগম ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে। মফস্বল শহর হওয়া সত্ত্বেও এখানকার মানুষ সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এবং তাদের মানসিকতাও বেশ সংস্কৃতিমনস্ক। তবে সারা দেশের মতো এখানেও বর্তমানে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় একধরনের ভাটার টান লক্ষ করা যাচ্ছে।’
নেত্রকোনার সাহিত্যচর্চায় এক ধরনের ভাটা পড়েছে বলে মনে করেন নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক তানভীর জাহান চৌধুরীও। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘একসময় বকুলতলায় প্রতি সপ্তাহেই সাহিত্যের আসর বসত। দুর্বার গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে নিয়মিত আয়োজন হতো; দেশের খ্যাতিমান কবি-লেখকরাও সেখানে এসে আড্ডায় অংশ নিতেন। আমরা পালাও করেছি। “মহুয়া” করেছি, “জলভরা সুন্দরী কন্যা”, “জলে দিশ্রমণ”, “কাইল কইছিলা কথা, আছেনি স্মরণ”—নদীয়ার চাঁদ ও মহুয়ার প্রেমের গল্প, মৈয়মনসিংহ গীতিকার এসব উপাদান আমরা শিল্পকলায় পালা হিসেবে মঞ্চস্থ করেছি। তখন খুবই উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। এখন সেই ধারায় ভাটা পড়েছে। মাসিক, সাপ্তাহিক কিংবা পাক্ষিক সাহিত্য আড্ডাগুলো আর আগের মতো হচ্ছে না। এসব আয়োজন কমে যাওয়ায় আমাদের সাহিত্যচর্চাতেও এক ধরনের ভাটা চলছে।’
স্থানীয় সাহিত্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলায় শিল্প-সাহিত্যচর্চার পরিসর সংকুচিত হয়েছে মূলত গত কয়েক বছরে। এ পরিবর্তিত সাংস্কৃতিক পরিসরে জেলার ‘আলোচিত ব্যক্তিত্ব’দের একজন হয়ে উঠেছেন আলোচিত-সমালোচিত ধর্মীয় বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। পূর্বধলা উপজেলার রফিকুল ইসলাম মূলত ওয়াজ মাহফিলে ‘শিশু বক্তা’ পরিচয়ে আলোচনায় আসেন। তার কণ্ঠ, বক্তব্যের ধরন ও বিভিন্ন বিষয়ে তীব্র ভাষার বক্তৃতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্য ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
১৯৯৪ সালে জন্ম রফিকুল ইসলাম মাদানীর। নেত্রকোনার একটি মাদরাসায় হিফজুল কোরআন অধ্যয়নের মধ্য দিয়ে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর একটি মাদরাসায় কয়েক বছর পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর একটি মাদরাসায় কিছুদিন অধ্যয়নের পর ঢাকার বারিধারার জামিয়া মাদানিয়া মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি নামের শেষে ‘মাদানী’ উপাধি যুক্ত করেন। এ উপাধি ব্যবহার নিয়েও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। মূলত সৌদি আরবের মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিরা নামের শেষে ‘মাদানী’ উপাধি ব্যবহার করেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ১৪-১৫ বছর বয়স থেকেই রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় ওয়াজ করতেন। তখন থেকেই তিনি আঞ্চলিকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এরপর সামাজিক যোগযোগমাধ্যমের সূত্রে সারা দেশেই তার একটি পরিচিতি তৈরি হয়। তবে তিনি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন ২০২১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরবিরোধী মিছিলের সময় মতিঝিল এলাকা থেকে পুলিশের হাতে আটক হয়ে। এরপর তিনি বিগত আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত) সময় কয়েক দফায় গ্রেফতার হন। এসব ঘটনাই মূলত তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। রফিকুল ইসলাম মাদানীর এ উত্থান নেত্রকোনার জনপরিসরে নতুন ধরনের লোকপ্রিয়তার দৃষ্টান্ত।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও নেত্রকোনায় সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন ছড়াকার শ্যামলেন্দু পাল। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিখ্যাত সাহিত্যিকদের জীবন, কাজ ও অবদান সম্পর্কেও নতুন প্রজন্মের জানাশোনা কমছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় পৃষ্ঠপোষকতার সীমাবদ্ধতাও এ সংকটের অন্যতম কারণ। বর্তমানে সাহিত্যচর্চা অনেকটাই খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার প্রদান এবং সরকারি উদ্যোগে রবীন্দ্র, নজরুল ও সুকান্তের জন্মজয়ন্তী পালনের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নেত্রকোনায় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো স্বতন্ত্র কালচারাল একাডেমি বা পর্যাপ্ত অডিটোরিয়াম নেই, যেখানে নিয়মিত বড় আয়োজন করা যায়। লাইব্রেরিগুলোতেও সাহিত্যচর্চা বা গবেষণার পরিবেশ সীমিত; সেখানে মূলত চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাই বেশি দেখা যায়।’
অতীতের সাহিত্যচর্চার পরিবেশ স্মরণ করে নেত্রকোনার কবি ও প্রাবন্ধিক সরোজ মোস্তফা বলেন, ‘হাওরকেন্দ্রিক ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এ অঞ্চলের মানুষকে আবহমানকাল ধরে গান ও কবিতার প্রতি অনুরাগী করে তুলেছে। সেই সূত্রে নেত্রকোনায় এখনো একটি সহনশীল সাংস্কৃতিক পরিবেশ বজায় আছে। তবে সময়ের প্রয়োজনে ঐতিহ্যের রূপ বদলালেও এর মূল শেকড় সংরক্ষণ জরুরি। সাহিত্যচর্চা টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী পাঠকসমাজ গড়ে তুলতে হবে এবং তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বাড়াতে হবে।’ এজন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সামাজিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
*ছবি কৃতজ্ঞতা: প্রামাণ্যচিত্র ‘একতারার ইমাম’-এর পোস্টারের জন্য এ জেড শিমুলের আঁকা উকিল মুন্সীর প্রতিকৃতি










