মনিরামপুরের ভবদহে জলাবদ্ধতার ঘটনার পুনরাবৃত্তিকে পদ্ধতিগত মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। আজ সোমবার (৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায় কমিশন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে ‘মনিরামপুরের ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতা; লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি’ বিষয়ক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বৃষ্টির মৌসুম আসলেই একটি বিশেষ অঞ্চল প্লাবিত হওয়া এবং লাখ লাখ মানুষের দুর্দশা সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এর ফলে স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বছরের পর বছর ধরে মানবিক বিপর্যয় সংগঠিত হওয়া সত্ত্বেও এ বিষয়ে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়া বা সমস্যার সমাধান না করা পদ্ধতিগত মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এ বিষয়ে কমিশন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনাপূর্বক স্বঃপ্রণোদিত অভিযোগ (সুয়োমটো) গ্রহণ করেছে।
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে মনিরামপুর উপজেলার ভবদহ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে এ অঞ্চলকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হয়নি। সম্প্রতি টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের ফলে বন্যার সৃষ্টি হওয়ায় এ অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ায় রাস্তার ওপরে উঁচু জায়গায় টং ঘর বেঁধে বসবাস করছে। এ অঞ্চলে শতশত স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা হাঁটু পানি ভেঙে কেউ বা বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজের ক্লাসে উপস্থিত হতে দেখা যায় বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, বছরের পর বছর একটি জনপদের জনগণের জীবনযাত্রায় বিপর্যয় সৃষ্টিকারী এ প্রকারের দুর্যোগের হাত থেকে এলাকায় বসবাসকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষকে একটি স্থায়িত্বশীল ব্যবস্থার সুযোগ প্রদান তাদের মানবাধিকারের দাবি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে সমস্যার একটি কার্যকর ও বাস্তবানুগ সমাধান নিরূপণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলে কমিশন প্রত্যাশা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশুদৃষ্টি কামনা করে।
এ অবস্থায়, এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং কেন এতদিনেও এ সমস্যার সমাধান করা যায়নি তা কমিশন জানতে চায়।










