২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা বিনা প্রশ্নে সাদা করার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বলে উল্লেখ করেছে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। প্রস্তাবিত বাজেটে এ সুযোগ থাকায় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান সংস্থাটির নেতারা। 

গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ঘোষিত জাতীয় বাজেট ২০২৪-২০২৫’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রিহাবের সহসভাপতি এমএ আউয়াল, মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, দেলোয়ার হোসেন, পরিচালক মুহাম্মদ লাবিব বিল্লাহ প্রমুখ।

যুক্তি হিসেবে সংগঠনটি বলছে, এর ফলে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে একবার কালো টাকা সাদা হলে সেই টাকা পরের বছর ৩০ শতাংশ করের আওতায় চলে আসবে। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। তবে এটিকে নৈতিক অবস্থান থেকে ঠিক নয় বলে মনে করেন রিহ্যাব সভাপতি। 

মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘নৈতিকতার প্রশ্নে বলব, জিনিসটা হয়তো সঠিক নয়। একজনকে ১৫ শতাংশ দিচ্ছেন, আরেকজনকে ২৫-৩০ শতাংশ কর দিতে হচ্ছে। তবে একবার যখন করের আওতায় আনতে পারবেন, সে করজালের আওতায় এসে যাবে। পরে নিয়মিত কর দেবে। আর কালো টাকা সাদা করার সংখ্যাও কমে আসবে। যতই বলেন, এটাকে পছন্দ করি না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে, এ বিষয়টা আমাদের সমাজে আছে। এই টাকাটা তো ফেলে রাখা যায় না। আমার মনে হয়, এ সুযোগ লম্বা সময়ের জন্য দেয়া উচিত। পাঁচ বছর করে দেয়া উচিত। পরবর্তী বছরগুলোয় অন্য নাগরিক যেভাবে কর দেয়, সেভাবে দিয়ে এটাকে বৈধতা দেয়া উচিত।’

রিহ্যাব সভাপতি আরো বলেন, ‘রিহ্যাবের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সরকারের কাছে বাজেট সংক্রান্ত দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়েছে এবং তা নিয়ে নানা সময় বৈঠক হয়েছে। রিহ্যাবের বাজেট প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অর্থনীতির মূল ধারায় এসেছে। তাতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। এবারো সুযোগটি রাখায় রিহ্যাবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ। কারণ সিদ্ধান্তটি বাস্তবসম্মত ও সময় উপযোগী। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। তবে পরিচালনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য বিপুল ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব আয় বাড়ছে না।’

ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়ে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ‘আবাসন খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের ধরন পরিবর্তন করা দরকার।’  বর্তমানে নিবন্ধন ফি সব মিলিয়ে ৩০ শতাংশ। এটা কমানো হলে ক্রেতারা জমির সঠিক মূল্য দেখাতে উৎসাহিত হবেন। ফলে অপ্রদর্শিত অর্থ সৃষ্টি স্বাভাবিকভাবে কমে আসব। এই ফি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন।