সারা দেশে ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর
পরিবেশে উদযাপন হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ ঘিরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ, উচ্ছ্বাস
আর ভালোবাসা। লিগলিতে পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত লোকজনের উপস্থিতি। ঈদের নামাজ শেষে হাসিমুখে
কোলাকুলি ও করমর্দনের পর একে অপরকে বাড়িতে টেনে নিচ্ছেন। সাধ ও সাধ্যানুযায়ী ঘরে ঘরে
রান্না হয়েছে সুজি, সেমাই, পোলাও, কোরমা, পায়েস, পিঠা-পুলিসহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার।
সকাল থেকেই রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোয় অনুষ্ঠিত
হয়েছে ঈদের প্রধান জামাতগুলো। এতে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। মুসল্লিরা
ঈদের নামাজ আদায় করেন উৎসবমুখর পরিবেশে। নামাজ শেষে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুসল্লিরা।
ঢাকা: রাজধানীতে হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দাসহ মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত শুরু হয়। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ঈদের জামাত। প্রধান ঈদ জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি রুহুল আমীন। মোকাব্বির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুয়াজ্জিন ক্বারি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে ইমাম বিশেষ খুতবা
দেন। এরপর সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির মুক্তিসহ কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি
কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দাদের জন্য
বিশেষভাবে আল্লাহর সাহায্য কামনা করা হয়। নামাজ ও মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের
সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ
আদায় করেছেন। এছাড়া প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি,
মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ
ব্যক্তিসহ সাধারণ মুসল্লিরা জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের পাঁচটি
জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে মানুষের কল্যাণ ও দেশের সমৃদ্ধ কামনা করে দোয়া মোনাজাত
করা হয়েছে। সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমে শুরু হয় ঈদের প্রথম জামাত। নামাজ শেষে ৭টা ২২
মিনিটের দিকে শুরু হওয়া ১২ মিনিটব্যাপী চলা মোনাজাতে আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে দোয়া
করেন ছোট-বড় সব বয়সী মুসল্লিরা। এ মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ
ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান।
মোনাজাতে দেশবাসীর কল্যাণ ও সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া কামনা করা হয়। এ সময় মোনাজাতে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি, মৃতের আত্মার মাগফিরাত, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ইমাম সাহেব। এরপর পর্যায়ক্রমে ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় শেষ ঈদ জামাত।
দিনাজপুর: ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে দেশের
অন্যতম বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় প্রায় সাত লাখ মুসল্লির
অংশগ্রহণে ঈদের এ জামাত শুরু হয়। ঈদের ঐতিহাসিক এ জামাতে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা
ও আশপাশের কয়েকটি জেলার মুসল্লিরা আসেন।
এ ঈদ জামাতে অংশ নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুইপ ইকবালুর
রহিম ও বিচারপতি এনায়েতুর রহিম, জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ, পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার
আহমেদ, দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) তৈয়বুল আলম দুলাল, দিনাজপুর জেলা আওয়ামী
লীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফুজ্জামান মিতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রশাসনের
কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সর্বস্তরের জনগণ।
মাগুরা: সকাল ৮টায় শহরের ঐতিহাসিক নোমানী ময়দানে
অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঈদ জামাতে অংশ নেন মাগুরার জেলা প্রশাসক আবু নাসের বেগ ও পৌর মেয়র
খুরশিদ হায়দারসহ সর্বস্তরের জনগণ। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান মাগুরাবাসীকে
ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে থাকায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
জেলায় এবছর ৪৬৪টি ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় হয়েছে। নোমানি ময়দান ছাড়াও শহরের পিটিআই মসজিদ
প্রাঙ্গন, পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া, শেখপাড়া, দোয়ারপাড়া, আদর্শপাড়া, স্টেডিয়ামপাড়া,
শিবরামপুর ঈদগাহসহ জেলার শ্রীপুর, মোহাম্মদপুর ও শালিখা উপজেলায় ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের
সাথে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বরিশাল: ঈদের প্রধান জামাত নগরীর বান্দ রোডের কেন্দ্রীয়
হেমায়েত উদ্দীন ঈদগাহে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের আগে পানিসম্পদ
প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ
খোকন সেরনিয়াবাত, বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক শহিদুল
ইসলামও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।










