অর্থনীতির প্রয়োজন মেটানোই ব্যাংকের কাজ। ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগের ওপর ভর করে একটি দেশের অর্থনীতির বিকাশ ঘটে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। ব্যাংকের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে বাড়ছে না ব্যাংকিং খাতের সক্ষমতা। দেশের ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ও জিডিপির অনুপাত এখনো ৪০ শতাংশের নিচে রয়েছে। এ বিনিয়োগেরও বড় অংশ মন্দ মানে পরিণত হয়েছে। অথচ মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া সবারই ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগ ও জিডিপির অনুপাত ১০০ শতাংশের উপরে।
বিশ্বের সব দেশেই জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ব্যাংকিং খাত। একটি দেশের ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগ ও জিডিপির অনুপাত ৭০ শতাংশের বেশি হলে তাকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ভারতেও এ অনুপাত ৭৫ শতাংশ।
অর্থনীতির উল্লম্ফনের সময় ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগ ও জিডিপির অনুপাত ছিল ১৫২ শতাংশ। বর্তমানেও দেশটির এ অনুপাত ১০১ শতাংশের বেশি। উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধির সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় বিনিয়োগ ও জিডিপির অনুপাত ১৮০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানেও এ অনুপাত ১৪৮ শতাংশ। ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থনীতির দ্রুত বিকাশমান সব দেশের বিনিয়োগ ও জিডিপির অনুপাত শতভাগের বেশি।
যদিও বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। জিডিপির আকার প্রায় সাড়ে ৩০০ বিলিয়ন ডলার হলেও দেশের ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ও জিডিপির অনুপাত এখনো ৩৭ শতাংশ। এ বিনিয়োগেরও বড় অংশ খেলাপি। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের ঋণের প্রায় ১২ শতাংশ খেলাপি হলেও দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের হার ২৫ শতাংশের বেশি।
দেশে ব্যাংকের সংখ্যা ৫৯ হলেও বড় ঋণ দেয়ার সক্ষমতা কোনো ব্যাংকেরই নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, গত এক দশকে অর্থনীতিতে নতুন নতুন ব্যাংক যুক্ত হয়েছে, কিন্তু বিনিয়োগের সক্ষমতা সেভাবে বাড়েনি। স্বাধীনভাবে এলসি খোলার সক্ষমতাও দেশের কোনো ব্যাংকের নেই। এজন্য দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশী ব্যাংকগুলোর। বিনিয়োগ ও জিডিপির অনুপাত বাড়াতে হলে ঝুঁকি মোকাবেলা করার সক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাংকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এজন্য একাধিক ব্যাংককে একীভূত করে বড় ব্যাংক গঠনের কোনো বিকল্প নেই।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান এ প্রসঙ্গে বলেন, অর্থনীতির আকারের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। ব্যাংকগুলোর ক্যাপিটাল অ্যাডেকুয়েসি রেশিও কম থাকায় কোনো ব্যাংকের পক্ষেই বড় বিনিয়োগে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বড় বিনিয়োগের সক্ষমতার জন্য ব্যাংকের মূলধন









