মহামারী করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ৫ এপ্রিল চলাচলে ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারির পর থেকে সবকিছুর সঙ্গে বন্ধ আছে দূরপাল্লার বাসও। ১৪ এপ্রিল দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন জারির আগে কিছুদিনের জন্য দোকানপাট এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলার অনুমতি দিলেও সবুজসংকেত পায়নি দূরপাল্লার বাস মালিকরা। সরকার আগামীকাল থেকে দোকানপাট খোলার ঘোষণা দেয়ার পর বাস মালিকরাও অধীর আগ্রহে সুখবর শোনার অপেক্ষায় আছেন। তারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে অচিরেই দূরপাল্লার বাস ও গণপরিবহন চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেবেন।
সম্প্রতি রাজধানীর সায়েদাবাদে গিয়ে দেখা যায়, পরিবহন শ্রমিকরা অলস দিনযাপন করছেন। কেউ কেউ বাড়ি চলে গেলেও অনেক শ্রমিকই কষ্টেসৃষ্টে রাজধানীর মাটি কামড়ে পড়ে আছেন। নেতারা আশ্বাস দিয়েছেন, সরকারের উপর মহলের সঙ্গে কথা হচ্ছে। যেকোনো দিন গণপরিবহন চালু হতে পারে। এ আশ্বাসই তাদের ঢাকা ছাড়তে দেয়নি। যারা বাড়ি গিয়েছিলেন তারাও জীবিকার খোঁজে ফিরে আসছেন ঢাকায়।
ঢাকা-চাঁদপুর লাইনের পদ্মা বাসের সুপারভাইজার মো. শিপন বলেন, আমাদের নিয়ে ভাবার কেউ নেই। আজ কত দিন আমরা কর্মহীন কঠিন জীনযাপন করছি, না কোনো ত্রাণ পেয়েছি, না পেয়েছি আর্থিক সহযোগিতা। আমাদের অনেক শ্রমিক গ্রামে চলে গেছেন। অনেকে আবার ঢাকায় ফিরে এসে রিকশা চালিয়ে, ভ্যান চালিয়ে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। সমাজের বিত্তবানরাও আমাদের খোঁজ নেয় না।
ঢাকা-কুমিল্লা লাইনের তিশা বাসের সুপার ভাইজার সেলিম বলেন, শ্রমিকদের দুঃখ বোঝার মতো এ দেশে কেউ আছে বলে মনে হয় না। সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে আমরা বাস চালানো বন্ধ রেখেছি, কিন্তু সরকার তো আমাদের কথা ভাবছে না। আজ আমাদের ঘরে ভাতও জোটে না। করোনায় কি মরবে, না খেয়েই অনেক পরিবহন শ্রমিক মারা যাচ্ছেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, হয় আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দেয়া হোক, নতুবা অনতিবিলম্বে দূরপাল্লার বাস এবং সব ধরনের গণপরিবহন চলাচলের সুযোগ দেয়া হোক
বাস চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালানোর কথাও বলেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
পরিবহন নেতারা বলছেন, গণপরিবহন বন্ধের ফলে লাভবান হচ্ছেন ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পরিবহন শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণ। জরুরি কাজে কোথাও যেতে হলে মানুষ চড়া মূল্যে গাড়ি ঠিক করে যাতায়াত করে। সরকারের উচিত ছিল সীমিত পরিসরে দূরপাল্লার বাস চালু রাখা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এবং এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এনায়েতুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, গণপরিবহন খুলে দেয়ার ব্যাপারে আমরা সরকারের উপরের পর্যায়ে কথা বলেছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে বৈঠকও করেছি। আমাদের জানানো হয়েছে, ২৮ এপ্রিলের আগে কোনো ধরনের বাস চলাচলের অনুমতি দেয়ার সম্ভাবনা নেই। এখন মহামারী চলছে। এ যুদ্ধে আমাদের সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
গণপরিবহন চালুর ব্যাপারে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, গণপরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় আছে। গণপরিবহন চালু করলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে। সবকিছু যেমন হঠাৎ করে বন্ধ হয়নি, তেমনি হঠাৎ করেই সবকিছু খুলে দেয়া হবে না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ক্রমে সবকিছু খুলে দিতে একটু সময় লাগবে।










