সাবেক
আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুদকে উপস্থিত হলো কী হলো না, এটা নিয়ে পেঁচানোর কিছু নেই বলে
মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সব অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই সময় দেয়া হয়।
বেনজীর আহমেদ আবেদন না করলেও সময় পেতেন। অন্য ১০টা অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যেভাবে
সময় দেয়া হয় সেভাবে। এক্ষেত্রে আবেদনও লাগে না। অনুসন্ধান কর্মকর্তাই সেই সময় দেন।
এটা আইনের বিধান। ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য শোনা হয়।
কারণ, সে যাতে কখনো বলতে না পারে, তার কথা শোনা হয়নি।
সোমবার
(১০ জুন) ২০২০ ও ২০২১ সালের ‘দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’
প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক
মিডিয়ার বিজয়ী ১২ জন সাংবাদিক দুদক চেয়ারম্যানের হাত থেকে ক্রেস্ট, সনদ ও আর্থিক সম্মানী
গ্রহণ করেন।
দুদক
চেয়ারম্যান বলেন, দুদক কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই তাকে আসামি বলে না। আদালতে চার্জশিট
না দেয়া পর্যন্ত আমরা কাউকে আসামি বলি না। এটা আইনের বিধান। আমরা বলি, অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য শুনি। কারণ, সে
যেন কখনো বলতে না পারে, আমার কথা শোনেনি। শুনলে তো আমি জবাব দিতাম, আমার বিরুদ্ধে মামলা
হতো না। এ জন্য একটা সময় দেয়া হয়। সে আবেদন করুক, আর না করুক।
দুদক
চেয়ারম্যান বলেন, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের দুই ভাইয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট
জালিয়াতির ঘটনায় দুদক থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি দেয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ
মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, দুর্নীতি প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। দুদকের একার পক্ষে
সব ধরনের দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়। মন্ত্রণালয়গুলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে
না। তারা ব্যবস্থা নিলে এত অভিযোগ দুদকে আসত না। তাদের পক্ষ থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নেওয়া হলে দুদকে অভিযোগ কম আসবে, দুদক এটাই চায়। সবক্ষেত্রে দুর্নীতি যেন
না হয় তার জন্য প্রতিরোধ করা জরুরি। সাংবাদিকরা যে কাজ করে আর দুদক যে কাজ করে, এসব
কাজে একে অপরের পরিপূরক।
অনুষ্ঠানে
দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেন, সমাজে যাদের ক্ষমতা আছে তারাই দুর্নীতি করে।
আপনারা সিআইপি, ভিআইপি যাদের সম্মান দিয়ে এগিয়ে আনতে যান তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।
ক্ষমতাবানদের ভয় পেলে চলবে না। কালোকে সর্বদা কালো বলতে হবে, লেখনীতে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট
প্রমাণ থাকতে হবে।
দুদক
কমিশনার (অনুসন্ধান) আছিয়া খাতুন বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য সুন্দর একটি প্রজন্ম
রেখে যেতে হবে। এজন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
দুদক
মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, প্রতিযোগিতার
জন্য জমা হওয়া প্রতিবেদনগুলোতে দুর্নীতির অনেক তথ্য-উপাত্ত এসেছে, সেগুলো দুদক আমলে
নিয়ে অনুসন্ধান চালালে দুর্নীতিবাজরা আতঙ্কে থাকবে। একইসঙ্গে সাংবাদিকরা তাদের কাজের
ক্ষেত্রে উৎসাহিত হবেন।










